পাকিস্তানের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব কম্পিউটার অ্যান্ড ইমার্জিং সায়েন্সেস (ফাস্ট-এনইউসিইএস) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের-(কুবি) সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়সহ বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্তর্জাতিক শিক্ষা অফিসের প্রধান মির্জা ওয়াকার বেগের সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তরের প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তরের পরিচালক মশিউর রহমান।
বৈঠকে মির্জা ওয়াকার বেগ জানান, ফাস্ট-এনইউসিইএসের করাচি, লাহোর, ইসলামাবাদ, পেশোয়ার, চিনিওট-ফয়সালাবাদ ও মুলতানসহ ৬ টি ক্যাম্পাসে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনিময় কর্মসূচি চালুর বিষয়ে তারা আগ্রহী। এছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাওয়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি মওকুফ, আবাসন সুবিধা, গ্রীষ্মকালীন স্কুল এবং দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেন ফাস্ট-এনইউসিইএস প্রতিনিধি। একইভাবে পাকিস্তান থেকে আগত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তরের পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, “পাকিস্তানি প্রতিনিধিরা মূলত গত ১১ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান নলেজ করিডর শিক্ষা মেলায় অংশ নিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। সেই সূত্রে তাদের সঙ্গে আমার কথা হয় এবং ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানাই। সেই আমন্ত্রণের ভিত্তিতেই তাঁরা আজ আমাদের ক্যাম্পাসে এসেছেন এবং বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “বৈঠকে দুই পক্ষই শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে আন্তরিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমাদের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করিম শুরু থেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। অন্য একটি দাপ্তরিক বৈঠকের কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে না পারলেও তাঁর পক্ষ থেকে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।”
মশিউর রহমান বলেন, “তুরস্ক, আলজেরিয়া ও মালয়েশিয়ার পর পাকিস্তানেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন একটি সুযোগের দরজা খুলতে যাচ্ছে। ফাস্ট-এনইউসিইএস মূলত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর একটি বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের বিজ্ঞানভিত্তিক বিভাগগুলো এ সহযোগিতা থেকে বিশেষভাবে উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি।”
বৈঠক শেষে দুই পক্ষের মধ্যে উপহার বিনিময় হয়। পরে মির্জা ওয়াকার বেগ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।
এফপি/জেএস