উপকূলীয় জেলা বরগুনার তালতলী উপজেলার রাজনীতিতে এখন সব মহলে আলোচিত নাম আকন মো. আল-মামুন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে।
জানা গেছে, আকন মামুনের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা তালতলী কলেজ ছাত্রদলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে। তিনি মেধা ও সাহসিকতার সমন্বয়ে দ্রুতই নিজেকে নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত করেন। পরবর্তীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতাকালীন কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ‘সহ-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক’ (২০১৬) এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ‘যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক’ (২০২২) হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও ঢাকাস্থ তালতলী উপজেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও উপদেষ্টা হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আকন মামুন ছিলেন এক আপসহীন ও নির্ভীক যোদ্ধা। রাজপথে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তিনি বারবার শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে পড়েছেন, শিকার হয়েছেন অসংখ্য হামলা ও মামলার। এমনকি পুলিশের গুলিতেও একাধিকবার আহত হয়েছেন তিনি, তবুও পিছু হটেননি। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ২৮শে অক্টোবরের পরবর্তী কঠিন সময়ে বিএনপির প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সম্মুখসারিতে থেকে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন।
এরপর ২০২৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে তার জনপ্রিয়তার জানান দেন। তার ভিন্নধর্মী প্রচারণার কৌশল তৃণমূল সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তবে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চেয়ে দলীয় আদর্শকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে দলের সিদ্ধান্ত মেনে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এই আত্মত্যাগ দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা ও সম্মানকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সবশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যখন অনেক প্রভাবশালী নেতা নিরাপদ আশ্রয়ে বা আত্মগোপনে ছিলেন, তখন তিনি ছিলেন ঠিক তার উল্টো। নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে আন্দোলনের সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ৫ই আগস্টের ঐতিহাসিক পট-পরিবর্তনের পর তার সেই সংগ্রাম থামেনি; বরং রূপ নিয়েছে নতুন উদ্যমে। রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের লক্ষ্যে ঘোষিত ‘৩১ দফা’ সম্বলিত লিফলেট হাতে নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন উপকূলীয় এ জনপদ।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-০১ (বরগুনা সদর-তালতলী-আমতলী) আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লার পক্ষে এক অভিনব প্রচারণার ঝড় তুলেছিলেন কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রদল নেতা আকন মামুন। সাধারণত নির্বাচনী প্রচারণা মানেই যখন মিছিল-মিটিং আর স্লোগান, তখন আকন মামুন বেছে নিয়েছিলেন এক ভিন্নধর্মী ও কৌশলী পথ। তিনি প্রার্থীর বার্তা পৌঁছে দিতে গ্রামের সাধারণ নারীদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ ভোটারদের সম্পৃক্ত করতে সুশৃঙ্খল নারী সমাবেশ ও পাড়া-মহল্লায় যুবকদের নিয়ে উঠান বৈঠকের আয়োজন করেন। প্রথাগত প্রচারণার বাইরে গিয়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়ার এই কৌশলটি ছিল অত্যন্ত কার্যকর। যা পুরো নির্বাচনী মাঠে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
আকন মামুন কেবল রাজনীতির মাঠেই সক্রিয় নন, বরং তার নানামুখী সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগগুলো স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে তিনি অত্যন্ত দূরদর্শী ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১৮ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘মুক্তিযুদ্ধ ও জিয়াউর রহমান স্মৃতি পাঠাগার’ যা এলাকায় জ্ঞানচর্চা ও ইতিহাস সচেতনতার এক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ২০২০ সালের বৈশ্বিক মহামারীর সময়ে যখন মানুষ ঘরবন্দী ও আতঙ্কিত, তখন আকন মামুন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। তিনি ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ঔষধ পৌঁছে দিয়েছেন, যা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে ‘আস্থার প্রতীক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তালতলী উপজেলা ছাত্রদলের আহব্বায়ক হাওলাদার মো. নাসির উদ্দিন, তালতলী সরকারী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইসাহাক আকন সবুজ, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মো. আবু জাফর বলেন, “৫ আগস্টের আগে এবং পরের কঠিন সময়ে আমাদের সুখে-দুঃখে একমাত্র আকন মামুনকেই পাশে পেয়েছি। দুঃসময়ে যখন আমাদের নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হয়ে থানা কিংবা জেলখানায় বন্দি থাকতেন, তখন তাকে ছাড়া সহযোগিতার হাত বাড়ানোর মতো কাউকে পাওয়া যেত না। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই এখন ঐক্যবদ্ধ উপজেলার বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাই নেতাকর্মীদের দাবি, ৫ আগস্টের রাজপথ কাঁপানো পরীক্ষিত নেতাদের হাতেই যেন তুলে দেওয়া হয় তালতলী উপজেলার আগামীর নেতৃত্ব।”
তালতলী উপজেলার কৃতি সন্তান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক উচিংলয়েন রাখাইন বলেন, “আকন মামুন আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু। ছোটবেলা থেকেই আমি তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি; মানুষের বিপদে সে কতটা উদার ও সংবেদনশীল হতে পারে, তা ভাবলে অবাক হতে হয়। বিশেষ করে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য সে সব সময় এক পরম নির্ভরতার নাম। বিগত বহু বছর ধরে সে নিজের দলের জন্য যে ত্যাগ ও হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেছে, যা অতুলনীয়। তার দক্ষ নেতৃত্ব আজ শুধু রাজনীতির মাঠেই সক্রিয় নন, বরং তার নানামুখী সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগগুলো পুরো তালতলী উপজেলার জন্য একটি গর্বের বিষয়।”
এফপি/অ