প্রতিষ্ঠার ২ দশকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে-(কুবি) বদলেছে ৮ জন উপাচার্য। বর্তমানে উপাচার্য হিসেবে নিয়োজিত আছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম.এম শরীফুল করীম। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ম উপাচার্য (১ জন ভারপ্রাপ্ত সহ)।
জানা যায়‚ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ থেকে ১৪ মে, ২০২৬ পর্যন্ত সর্বমোট ১ বছর ৭ মাস ২১ দিন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া নবীন বিশ্ববিদ্যালয়টিতে একজন উপাচার্য গড়ে ২ বছর করে থেকেছেন। জানা যায়‚ আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পূর্ণাঙ্গ মেয়াদ শেষ করতে পারেননি তারা। ৪ বছর পূর্ণাঙ্গ মেয়াদ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন কেবল ৩ জন উপাচার্য। প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষকরা জানান— বৈষম্য‚ অবিচার ও আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা থেকে বৈরিতা তৈরি হয়। তারা বলেন‚ এগুলো দূর হলেই এড়ানো যাবে এমন পরিস্থিতি।
‘প্রথমদিকের ভাইস চ্যান্সেলর তো, তখন অনেক কিছুরই স্বল্পতা ছিলো। পাওয়া‚ না-পাওয়া ছিলো। রাজনৈতিক কারণ ছিলো। প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রাপ্তি ছিলো না। যখন কেউ বঞ্চিত হয় তখনই আন্দোলন হয় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ডিসক্রিমিনেশন করলেই এমন হয়। ডিসক্রিমিনেশন যদি না করে, জাজমেন্টাল যদি না হয় তাহলে এরকম কিছু হবে না।’—বলে মন্তব্য করেন উপ-উপাচার্য ও প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল৷
তিনি আরও বলেন‚ ‘আমরা আশা করছি সামনে এমন কিছু হবে না। যেহেতু নতুন উপাচার্য এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষক‚ প্রত্যেকের প্রত্যাশা অনুযায়ীই তিনি কাজ করবেন।’
২০০৬ সালের ২৮ মে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক ড. গোলাম মাওলা। তিনি ২৬ জুলাই ২০০৬ সালে নিয়োগ পেয়ে ৩০ জুলাই ২০০৮ পর্যন্ত প্রায় ২ বছর দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. এম. জুলফিকার আলী। তিনি ৩১ জুলাই ২০০৮ থেকে ১৯ অক্টোবর ২০০৮ পর্যন্ত মোট ৮০ দিন দায়িত্বে ছিলেন।
এরপর আসেন অধ্যাপক ড. এইচ এম জেহাদুল করিম। তিনি ২০ অক্টোবর ২০০৮ থেকে ২২ নভেম্বর ২০০৯ পর্যন্ত মোট ১ বছর ১ মাস উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তারপর অধ্যাপক ড. আমির হোসেন খান প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ সময় (৪ বছর) উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২৩ নভেম্বর ২০০৯ থেকে ২২ নভেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন।
২০১৩ সালের ৩ ডিসেম্বর নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. মো. আলী আশরাফ তিনিও পূর্ণাঙ্গ—সময় ২ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ৩০ জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত মোট ৪ বছর সময় দায়িত্বে ছিলেন।
এরপর আসেন অধ্যাপক ড. এ.এফ.এম আব্দুল মঈন। তিনি উপাচার্য হিসেবে নিয়োজিত হন ৩১ জানুয়ারী ২০২২ এ। ২০২৪ সালের ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর ১৯ আগস্ট ২০২৪ এ পদত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষকদের মধ্য থেকে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন‚ ‘প্রথমত আমাদের মানসিকতার সমস্যা। প্রতিটি উপাচার্য আসার পরই অনেকেই ফুল দেয় এটা করবে, ওটা করবে। অনেক এক্সপেক্টেশন থাকে। কিছুদিন যাওয়ার পর যখন উপাচার্যরা বিভিন্ন কাজ করে তখন একটা কাজ সবার জন্য ভালো হবে না। কারো পক্ষে যায়, কারো বিপক্ষে যায়। তখন এই সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয়। যারা শুভেচ্ছা জানাচ্ছে তারা হয়তো এজেন্ডা নিয়ে যাচ্ছে যে উনি থাকলে আমার এই কাজটা হয়ে যাবে। আইনের বেড়াজালে পরে অথবা কোন না কোন কারনে হচ্ছে না, তখন আর এই উপাচার্যকে ভালো লাগে না। এক-দেড় বছর পরেই এই সমস্যাটা সৃষ্টি হয়। এই কারনেই এই অবস্থাটা।’
তিনি আরও বলেন‚ ‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই চললে তখন সাস্টেন করা সম্ভব হয়। আর আইনের ব্যাত্যয় ঘটিয়ে চললে তখন কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় উপাচার্যরা নিজের ক্ষমতাবলে অনেক কিছু করে। ঐ কাজটা করলেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়৷ তখন দুইটা পক্ষ দাঁড়িয়ে যায় আর শিক্ষার্থীরা সাফার করে৷ দুই পক্ষ দাঁড়িয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় আনস্টেবল হয়ে যায় তখন উপাচার্যদের আর কিছু করার থাকে না।’
এ ছাড়াও, রাজনৈতিক বা অন্যান্য কারনে আইনের ব্যাত্যয় ঘটানো, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংকেও দায়ী করেন তিনি। এমন পরিস্থিতি এড়াতে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে বলে জানান তিনি।
এফপি/এমআই