কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া তিন কিশোর বন্ধুকে দুই দিন পর খোকসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। 'কাল্পনিক জগতের' সন্ধানে ঘর ছেড়ে যাওয়া এই তিন শিক্ষার্থীকে শুক্রবার রাতে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
গত ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) দুপুর আড়াইটার দিকে কুমারখালী উপজেলার বুজরুক দুর্গাপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয় তিন বন্ধু—সামিউল আলিম শাওন (১৩), শামিম (১২) ও তালহা (১২)।
তারা সবাই স্থানীয় দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পরিবারের অগোচরে তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে না আসায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজে না পেয়ে কুমারখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজের খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। গত শুক্রবার রাতে খোকসা উপজেলার সাতপাখিয়া এলাকার কয়েকজন তরুণ রাজবাড়ীর কালুখালী থেকে ক্রিকেট খেলে ট্রেনে ফিরছিলেন। 'মধুমতি এক্সপ্রেস' ট্রেনে ওই তিন কিশোরকে দেখে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবির সঙ্গে তাদের মিল খুঁজে পান তারা।
তরুণরা তাৎক্ষণিকভাবে কিশোরদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের খোকসা রেলস্টেশনে নামিয়ে রাখেন। খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, মূলত শখ পূরণ ও অজানাকে জানার এক কাল্পনিক মোহে পড়ে তারা নিজেদের ইচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। ফেসবুক ও গণমাধ্যমের প্রচারণার ফলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের সুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সন্তানদের ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে পরিবারগুলোতে। শামিমের বাবা আব্দুর রহিম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "ধান মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগে ছেলে কাউকে না বলে বেরিয়ে গিয়েছিল। ছেলেকে ফিরে পেয়ে আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া।"
স্থানীয় সচেতন মহল এবং পুলিশ প্রশাসন সাতপাখিয়া এলাকার সেই তরুণদের বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যাদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই কিশোররা পরিবারের কাছে ফিরতে পেরেছে।
এফপি/অ