বান্দরবানের সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
এবার উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার (১৫ মে) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী টিভি টাওয়ার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার চালানটি সীমান্ত পিলার-৩২ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল বলে জানিয়েছে বিজিবি।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মো. মেহেদী হাসান আশিক, পদাতিক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘুমধুম বিওপির একটি বিশেষ টহলদল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে টিভি টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ফেলে রাখা একটি ব্যাগ তল্লাশি করে ৩০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় দায়িত্ব পালন করছে না, একইসঙ্গে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করতে না পারে সে লক্ষ্যে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচারের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও ঝোপঝাড় ব্যবহার করে পাচারকারীরা অভিনব কৌশলে ইয়াবা দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযানে অনেক চালান আটক হচ্ছে।
ঘুমধুম ইউনিয়নের একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সীমান্ত এলাকায় রাতের আঁধারে মাদক কারবারিদের চলাচল আগের চেয়ে বেড়েছে। বিজিবি অভিযান চালানোর কারণে অনেক সময় তারা ইয়াবার চালান ফেলে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার বন্ধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়; একইসঙ্গে প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি। কারণ ইয়াবার ভয়াবহ ছোবলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যুবসমাজ।
নাইক্ষ্যংছড়ির করলিয়ামুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাফর আলম হেলালী বলেন, মাদক এখন সীমান্ত এলাকার বড় আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে পাচারকারীরা এখনও সক্রিয়। এদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একইসঙ্গে জড়িত পাচারকারীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব অভিযানের ফলে সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এফপি/জেএস