নওগাঁর মান্দায় দ্রুত বিচার ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গ্রাম আদালত। বিশেষ করে পারিবারিক কলহ, ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি অভিযোগের মীমাংসা আপসের মাধ্যমে হওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ছে এই আদালতের ওপর।
উপজেলার ৫নং গণেশপুর ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে গরিব ও অসহায় মানুষ আইনি প্রতিকার পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের মতে, ছোটখাটো সমস্যায় এখন আর থানা-পুলিশ কিংবা জেলা সদরের কোর্ট-কাচারিতে দৌড়াতে হচ্ছে না। এতে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত সামান্য ফি দিয়েই ইউনিয়ন পরিষদে মামলা করতে পারছেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সপ্তাহের নির্ধারিত এই দিনে বসে গ্রাম আদালতের এজলাস। সেখানে আসা কাঞ্চন গ্রামের আব্দুল মান্নান জানান, কয়েক মাস আগে একটি পারিবারিক দ্বন্দ্বে মারামারির ঘটনায় তিনি চেয়ারম্যানের ওপর আস্থা রেখে এখানে আসেন। খুব কম সময়ে কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই তিনি সমস্যার সমাধান পেয়েছেন।
আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে এই আদালতের কার্যক্রম। দিনে গড়ে ১৫ থেকে ২০টি মামলার শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। ইউনিয়ন সচিব ও ইউপি সদস্যদের নিয়ে চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল এই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালতের এই জনপ্রিয়তা ও চেয়ারম্যানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে গণেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে নিরলস কাজ করছি। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে মানুষ দ্রুত ও সহজে বিচার পাওয়ায় এর প্রতি আস্থা বাড়ছে। একটি কুচক্রী মহল এই উন্নয়নমূলক কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’
উল্লেখ্য, গ্রাম আদালতের পাশাপাশি এই ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সরকারের ৮৩টি সেবা ও ভাতা প্রদান কার্যক্রম চালু রয়েছে। এর মধ্যে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, ভিজিডি, ভিজিএফ এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো সরাসরি পরিচালিত হচ্ছে।
এফপি/জেএস