ভারী বৃষ্টির কারনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। দীর্ঘ দিন ধরে এসব গর্ত সংস্কার না করায় একদিকে যেমন চালক ও যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে, অন্যদিকে যানজট ও দুর্ঘটনা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্বরোড মোড়ের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পিচ-ঢালাই উঠে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি ও কাঁদা জমে এই গর্তগুলো এখন একেকটি ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। বিকেলে বিশ্বরোড মোড়ে একটি মালবাহী পিকআপ ভ্যান কাঁদা ও গর্তে আটকে গেলে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় মানুষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ধাক্কা দিয়ে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। রাস্তার বেহাল দশার কারণে গাড়ির গতি কমে গিয়ে মাইলের পর মাইল দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের দেওয়ান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মহাসড়কের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, একটি গাড়ি গর্তে পড়ে বিকল হলে পুরো মহাসড়ক অচল হয়ে পড়ে। আমাদের কাজ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা, কিন্তু এখন সারাদিন গর্তে পড়া গাড়ি উদ্ধার করতেই সময় চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক বিভাগ মাঝে মাঝে নস্ট ইটের খোয়া দিয়ে গর্তগুলো ভরাট করার চেষ্টা করলেও বৃষ্টির কারণে তা কয়েক ঘণ্টার বেশি টিকছে না। রাতের অন্ধকারে এই গর্তগুলো দেখতে না পেয়ে মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনগুলো প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। রাস্তার কারণে সৃষ্ট যানজটের জন্য সাধারণ মানুষ অনেক সময় হাইওয়ে পুলিশকে দায়ী করছে, যদিও রাস্তা মেরামতের দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ বিভাগের।
ভুক্তভোগী চালক ও যাত্রীদের দাবি, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ ( বিশ্বরোড) অংশটি দ্রুত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে টেকসই মেরামত করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। একই সাথে আসন্ন ঈদুল আজহার আগে এই ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
খরব পেয়ে শেষ বিকেলে বিশ্বরোড পরিদর্শনে আসেন হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রেজাউল করিম। তিনি উপস্থিত AFCON কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নিম্নমানের খোয়া মহাসড়কে ব্যাবহার না করার অনুরোধ করাসহ গর্তগুলি টেকসই মেরামতের অনুরোধ করেন।
এফপি/জেএস