নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকহরিনারায়ন দাখিল মাদ্রাসায় জনবল নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসার সুপারেনটেনডেন্টের বিরুদ্ধে নিজের মেয়েকে নিয়োগ দিতে নিয়ম বহির্ভূত প্রক্রিয়ার অভিযোগ তুলে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষে মোহাম্মদ জাকির হোসাইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসাটিতে ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিজের ছোট মেয়ে উম্মে আখি আক্তারকে নিয়োগ দিতে যাবতীয় প্রক্রিয়া গুছিয়ে এনেছেন সুপারেনটেনডেন্ট। এছাড়া পিয়ন পদে আজিজুল ইসলাম ও শাহীন আলমসহ একাধিক প্রার্থীর সঙ্গে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। আফজাল হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন যে, তাকে নিয়োগের কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি জনসমক্ষে প্রচার না করে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। এমনকি ম্যানেজিং কমিটির অনেক সদস্যকেও এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। আরও অভিযোগ রয়েছে, গত ৬ বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এক কর্মচারীর নামে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপারেনটেনডেন্ট বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নিয়োগের ক্ষেত্রে সকল সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম করা হয়নি।”
মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, “চকহরিনারায়ন দাখিল মাদ্রাসার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।”
এদিকে বিতর্কিত এই নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত স্থগিত করে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এফপি/জেএস