Dhaka, Saturday | 18 April 2026
         
English Edition
   
Epaper | Saturday | 18 April 2026 | English
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই
বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম
আগামী পাঁচ দিনে বজ্র ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস
পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজের সূচি প্রকাশ
শিরোনাম:

৭২ ঘণ্টার মধ্যে ডা. বাবলু পুনর্বহাল না হলে খুলনায় কর্মসূচি

প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৭ পিএম  (ভিজিটর : ১০)

খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চেয়ারম্যান পদ রফিকুল হক বাবলুকে পুর্নবহালের দাবিতে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), খুলনা শাখা।

আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে আল্টিমেটাম দিয়ে নেতারা জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ডা. বাবলুকে সসম্মানে পুনর্বহাল এবং ঘটনার দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বুধবার থেকে খুলনার সব সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করা হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চেয়ারম্যান পদ মব সৃষ্টি করে ডা. বাবলুকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক ও বেআইনি প্রক্রিয়ায়’ অপসারণ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা। সংগঠনটির দাবি, একটি ‘কুচক্রী মহল’ পরিকল্পিতভাবে এ পদক্ষেপ নিয়েছে, যা চিকিৎসক সমাজের মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত।

ড্যাব নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ইনডোর সেবা বন্ধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে যা কার্যত খুলনার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরে থাকা কয়েকজন ‘চিহ্নিত ব্যক্তি’ এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা ও স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিও জানানো হয়।

নেতৃবৃন্দ জানান, বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তুলে ধরে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ড্যাব খুলনা মহানগরের সভাপতি ডা. মোস্তফা কামাল। বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ড্যাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আকরামুজ্জামান, খুলনা শিশু হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ দেবনাথ, ড্যাব নেতা ডা. গোলাম আজমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চিকিৎসক নেতারা বলছেন, দ্রুত সম্মানজনক সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে আর তার চাপ সরাসরি পড়বে রোগীদের ওপর।

জানাগেছে বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৬ সাল থেকে চোখের উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে অন্ধত্ব নিবারণে কাজ করে যাচ্ছে হাসপাতালটি। ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে হাসপাতালটি পরিচালিত হয়। এক সময় দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসকরা হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডে থাকতেন।

পরবর্তীতে এটি দলীয়করণের মুখে পড়ে। ২০১৯ সালে হাসপাতালের সর্বশেষ ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। তখন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক। অভ্যুত্থানের পর চেয়ারম্যানসহ অধিকাংশ ট্রাস্টি সদস্য আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়।

এর চেয়ারম্যান করা হয় বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসক নেতা ডা. রফিকুল হক বাবলুকে। ভাইস চেয়ারম্যান হন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান। ১১ সদস্যের বোর্ডের ৫ জন বিএনপি সমর্থিত, দু'জন জামায়াত, একজন ছাত্র প্রতিনিধি এবং একজন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ছিলেন। এই বোর্ডের মেয়াদ ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত।

জানাগেছে গত ১৩ এপ্রিল খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলী আজগর লবি খুলনার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের কমিটি বিলুপ্ত করেন এবং নিজেকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেন।

ওই দিন তার সঙ্গে আসা বিএনপির কিছু নেতা ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ডা. রফিকুল হক বাবলুকে নাজেহাল করেন। বিএনপি নেতারা ডা. বাবুলকে ফ্যাসিস্টের দোসরসহ বিভিন্ন গালাগাল করে পদত্যাগের জন্য চাপ দেন। পরে সংসদ সদস্য কমিটি ভেঙে দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি তৈরি হবে বলে জানান।

ওইদিন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. রফিকুল হক বাবলু বলেছিলেন, ‘সোমবার সংসদ সদস্যের হাসপাতাল পরিদর্শনে আসার কথা ছিল। সেইভাবে আমরা ফুল নিয়ে তৈরি ছিলাম। তিনি আমার কক্ষে এসে বসার কিছু সময় পরই তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা আমাকে উদ্দেশ্যে করে নানা অভিযোগ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা মব তৈরি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এমপি মহোদয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। আমিও সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তাকে কমিটি গঠনের দায়িত্ব দিয়েছি। এখন তিনিই পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন।’

হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডের পরিচালক ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এস এ রহমান বাবুল বলেছিলেন, ‘সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। হঠাৎ সবাই উত্তেজিত হয়ে পরিবেশ পাল্টে দিল। এরপর কমিটি ভেঙে দিয়েছেন।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ট্রাস্টি বোর্ডের মেয়াদ ৬ বছর। মুখের কথায় এভাবে কমিটি ভাঙা যায় কিনা এটা এমপি সাহেবই ভালো বলতে পারবেন।’

খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবি বলেন, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. রফিকুল হক বাবলু রিজাইন করেছেন, এখন আমরা নতুন কমিটি করব। তাদের আমি বলেছি, আমি ঢাকায় যাব। সংসদের অধিবেশন আছে। অধিবেশনের পরে এসে সবাইকে নিয়ে বসে এলাকার গণ্যমান্য মুরব্বিদের নিয়ে সুন্দরভাবে হাসপাতাল চালানো যায় সেইভাবে একটা কমিটি গঠন করা হবে।

ওইদিন তিনি আরো বলেন, সবাইকে নিয়েই কমিটি করা হবে। ডা. বাবলু সাহেব যেহেতু থাকবেন না আর আমি যেহেতু এলাকার এমপি এ জন্য আপাতত চেয়ারম্যান। নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত সময়টুকু চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করব।

এফপি/জেএস

সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝