নওগাঁর মান্দা উপজেলায় পাচারের সময় সরকারি ভর্তুকি মূল্যের ৪৫ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চক কালিকাপুর স্কুল মোড় এলাকা থেকে এসব সার আটক করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মান্দা উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত সার দুটি চার্জার ভ্যানে করে পার্শ্ববর্তী রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় পাচার করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলাকাবাসী চক কালিকাপুর স্কুল মোড়ে ভ্যান দুটি আটকে রেখে প্রশাসনকে খবর দেয়। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাবিল নওরোজ বৈশাখ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সারগুলো জব্দ করেন। জব্দকৃত সারের মধ্যে ২৫ বস্তা ডিএপি এবং ২০ বস্তা টিএসপি রয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাবিল নওরোজ বৈশাখ বলেন, “এক উপজেলার সার অন্য উপজেলায় নেওয়ার কোনো বৈধ সুযোগ নেই। পাচারের খবর পেয়ে আমরা অভিযান চালিয়ে সারগুলো জব্দ করি। কোনো মালিকের হদিস না পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের উপকারের কথা চিন্তা করে সেখানেই সরকারি দামে সারগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রতি বস্তা টিএসপি ১৩৫০ টাকা এবং ডিএপি ১০৫০ টাকা দরে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে এবং এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সার বহনকারী ভ্যানচালক জানান, সারগুলো বাগমারার দামনাশ হাটের আমজাদ নামের এক ব্যবসায়ীর দোকানে নেওয়া হচ্ছিল। মাঝপথে অন্য একটি গাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তার ভ্যানে সারগুলো তুলে দেওয়া হয়। তবে তিনি সারের মূল মালিক বা উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
সারগুলো বিক্রির সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাইমিনুল ইসলাম এবং উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ভর্তুকির সার কালোবাজারে বিক্রি বা পাচার রোধে তাদের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
এফপি/জেএস