চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে হত্যাচেষ্টার মামলা তুলে না নেওয়ায় মাদ্রাসা থেকে তুলে নিয়ে মাওলানা মাহমুদুল ইসলাম (৩৫) নামে এক শিক্ষককে মারধর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই আ. লীগ নেতা সরল ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড আ. লীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউপি সদস্য।
রোববার সন্ধায় উপজেলার সরল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সরল মদীনাতুল উলুম মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার ওই মাদ্রাসা শিক্ষক সরল মদীনাতুল উলুম মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে আহত মাদ্রাসা শিক্ষক বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ‘আহত মাদ্রাসা শিক্ষক মাহমুদুল ইসলামের ভাই মো. জাফরুল ইসলামের ওপর গত ১৩ মার্চ দল-বল নিয়ে হামলা করেন আ. লীগ নেতা সেলিম মেম্বার। এ ঘটনায় আহত জাফরুল ইসলামের মা বিবি আমেনা বেগম বাদী হয়ে আ.লীগ নেতা সেলিম মেম্বার ও তাঁর তিন সহযোগীকে আসামি করে বাঁশখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা তুলে নিতে কয়েক দফা হুমকি দেন। পরে এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে রোববার সন্ধায় বাদীর অপর ছেলে মাদ্রাসা শিক্ষক মাহমুদুল ইসলামকে ক্লাস চলাকালীন সময়ে মাদ্রাসা থেকে তুলে নিয়ে মারধর ও কুপিয়ে জখম করেন আ. লীগ নেতা সেলিম।’
স্থানীয়রা জানান, ‘বাঁশখালীর সাবেক এমপি মোস্তাফিজের একান্ত আস্তাভাজন সেলিম মেম্বার এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাসহ একাধিক মামলার আসামি এই আ. লীগ নেতা ৫ আগস্টে সরকার পতন হলে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর পুলিশ গ্রেফতার করলে জেল থেকে জামিনে এসে পুনরায় বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন ৷ এ ছাড়া এই আ. লীগ নেতা ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে প্রচারণাকালে সরল এলাকায় বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও চট্টগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ওপর গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনায় নেতৃত্বদেন।’
এ বিষয়ে আহত মাদ্রাসা শিক্ষক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘মেম্বার সেলিম বাহিনী গত মাসে আমার ভাইয়ের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন। এ ঘটনায় আমার মা বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ৷ এরপর ওই মামলা তুলে নিতে আমার পরিবারকে কয়েক দফা হুমকি দেন। গতকাল হটাৎ ক্লাস চলাকালীন সময়ে সেলিম ও তাঁর দলবল এসে আমাকে মাদ্রাসা থেকে তুলে নিয়ে রাস্তায় মারধর ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন।’
বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেন নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এফপি/অ