চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আবারও চালু করা হয়েছে ‘নীরব বহিষ্কার’ বা ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ ব্যবস্থা। সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার হলে কোনো পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে ধরা না হলেও যদি তিনি নিয়ম ভঙ্গ করেন—যেমন কথা বলা, ঘাড় ঘোরানো, অন্যের খাতা দেখা বা কোনো ধরনের অসদুপায় অবলম্বন করেন—তাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক তাকে ‘নীরব বহিষ্কার’ করতে পারবেন।
এই প্রক্রিয়ায় পরীক্ষার্থী তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেন না যে তিনি বহিষ্কৃত হয়েছেন। তবে পরে তার উত্তরপত্র বাতিল করা হয় এবং বিষয়টি পরীক্ষার নথিতে ‘রিপোর্টেড’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো পরীক্ষার্থীকে অসদুপায় অবলম্বনের কারণে বহিষ্কার বা নীরব বহিষ্কার করা হলে তার সৃজনশীল উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার প্রথম অংশ না ছিঁড়ে পরীক্ষকের প্রতিবেদনসহ নির্ধারিত গোপনীয় ফরমে সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। এরপর পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই উত্তরপত্র আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষণ করতে হবে।
প্যাকেটের ওপর লাল কালি দিয়ে স্পষ্টভাবে ‘রিপোর্টেড’ লিখে কেন্দ্রের অন্যান্য উত্তরপত্র থেকে আলাদা করে পরীক্ষার নিয়ন্ত্রক দপ্তরে জমা দিতে হবে।
আরও বলা হয়েছে, নীরব বহিষ্কারের ক্ষেত্রে কারণ অবশ্যই পরীক্ষকের প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। নীরব বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীকে পরবর্তী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে, তবে তার পরবর্তী উত্তরপত্রগুলোও বিশেষ পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়, পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে যদি পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বন না-ও করেন, তবুও তার সব বিষয়ভিত্তিক উত্তরপত্র ‘নীরব বহিষ্কার’ সংক্রান্ত নথিসহ আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষণ করতে হবে এবং কেন্দ্রের অন্যান্য খাতার সঙ্গে একত্রে না পাঠিয়ে পৃথকভাবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পাঠাতে হবে।
শিক্ষা বোর্ডের মতে, এই ব্যবস্থা পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং পরীক্ষার হলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রত্যেক কেন্দ্রকে নীরব বহিষ্কারের ঘটনা সঠিকভাবে নথিভুক্ত করতে হবে এবং বোর্ডের নির্ধারিত গোপনীয় ফরম পূরণ করতে হবে।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষার মান বজায় রাখা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ তৈরি করতে সহায়ক হতে পারে, তবে এটি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা না হলে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগও থাকতে পারে।
এফপি/অ