কুমিল্লার হোমনায় অটোরিকশাযাত্রী দম্পতির পথ রোধ করে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার একটি গ্রামের রাস্তায় গতকাল বুধবার রাতে এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ওই নারী আজ বৃহস্পতিবার সকালে হোমনা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আশিকুর রহমান নামের এক যুবককে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী ওই নারী ও তাঁর স্বামী হোমনা পৌর এলাকায় ভাড়া করা বাসায় থাকেন। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁরা একটি অটোরিকশায় তিতাস উপজেলায় বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে কৃষি কলেজ এলাকা পার হওয়ার পর ওপারচর গ্রামের আশিকুর রহমান (২৪) ও তাঁর আরও ছয়-সাতজন সহযোগী দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে ওই দম্পতির পথ রোধ করেন।
অভিযুক্ত যুবকেরা দম্পতিসহ অটোরিকশাটিকে জোরপূর্বক একটি নির্জন ইটের রাস্তায় নিয়ে যান। সেখানে আশিকুর রহমান ও তাঁর দুই সহযোগী ওই নারীকে আটকে রাখেন। অন্যরা তাঁর স্বামী ও অটোরিকশার চালককে দূরে সরিয়ে নিয়ে যান। এ সময় আশিকুর রহমান ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই দম্পতিকে ছেড়ে দিলে তাঁরা হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও হোমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিস উদ্দিন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ভোর রাত থেকেই আমরা ‘জড়িত আসামিদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা করছি।’
হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক মো. শহিদ উল্লাহ জানান, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এক নারী ও তাঁর স্বামী হাসপাতালে এসেছিলেন। পরে তারা পুলিশের সহায়তা নেন। ওই নারীকে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, খবর পাওয়ার পরপরই আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আজ দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত আশিকুর রহমানসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
এফপি/এমআই