নির্মাণ বিধিমালা ও অনুমোদিত নকশা অমান্য করে ভবন নির্মাণ অব্যাহত রাখার অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকার হাবিব লেনের একটি বহুতল ভবন সিলগালা করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ, নোটিশ, জরিমানা ও একাধিক অভিযানের পরও অনিয়ম বন্ধ না হওয়ায় সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) পরিচালিত অভিযানে ভবনের নকশাবহির্ভূত অংশ অপসারণের পাশাপাশি পুরো ভবনটি সিলগালা করা হয়।
সিডিএ সূত্রে জানা যায়, খুলশীর হাবিব লেনের শেষ প্রান্তে অবস্থিত ক্যাপ্টেন এবিএম দেলোয়ার হোসাইনের মালিকানাধীন ভবনটিতে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছিল। এর ফলে ভবনটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিডিএ একাধিকবার পরিদর্শন ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও ভবন মালিক নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন করেননি।
বৃহস্পতিবারের অভিযানে সিডিএর স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীনের নেতৃত্বে ভবনের সামনের নকশাবহির্ভূত অংশ ভেঙে ফেলা হয়। একই সঙ্গে ভবনের ওপরের অবৈধভাবে নির্মিত অংশ অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত ভবনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। অভিযানে সিডিএর অথরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ টিপুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট একই ভবনে অভিযান চালিয়ে নিচতলা থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত বিভিন্ন নকশাবহির্ভূত অংশ অপসারণ করা হয়েছিল। সে সময় নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে ভবন মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই অভিযানের পরও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই এবং নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভবন নির্মাণে মৌলিক বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা হয়নি। বিধি অনুযায়ী ভবনের চারপাশে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রায় পুরো প্লটজুড়ে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প কিংবা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাশের প্লটের বাসিন্দা শামিম আরা নওশাদ ভবনটির বিরুদ্ধে সিডিএতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে গত ২৫ মে ভবন মালিককে নোটিশ প্রদান করা হয়। সিডিএর অথরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ টিপু স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে ১০ জুনের মধ্যে সব নকশাবহির্ভূত অংশ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেও নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় সিডিএ পুনরায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সিডিএর অথরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ টিপু বলেন, “ভবনের সামনের অবৈধ অংশ অপসারণ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট নকশাবহির্ভূত অংশ অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত ভবনটি সিলগালা অবস্থায় থাকবে। ভবন মালিক যদি স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আত্মসমর্পণ করে অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার লিখিত মুচলেকা দেন, তাহলে বিধি মোতাবেক পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় ভবন মালিক উপস্থিত ছিলেন না।
সিডিএ কর্মকর্তারা জানান, নগরীর পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং নির্মাণ বিধিমালা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠা ভবন ও স্থাপনার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এফপি/এমআই