পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নে নির্মানাধীন সত্যলোক রিসোর্ট এর আড়ালে পতিতাবৃত্তি, জুয়া ও মাদক ব্যবসা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল করেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে দাপুনিয়া ইউনিয়নের খোঁকড়া চারমাথা মোড়ে এ মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, শরিফুল হক জনি নামের এক ব্যক্তি এলাকার উন্নয়নে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম ও হাসপাতাল, সাধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনার কথা বলে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। যেখানে পরবর্তীতে তিনি আধ্যাত্মিক সাধনা, যোগব্যায়াম বা মেডিটেশনের সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলেন।
কিন্তু এলাকাবাসী অভিযোগ পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি রিসোর্টে রূপান্তরিত হয়। গোপনে যেখানে ছোট ছোট রুম করে এলাকার যুবক-যুবতী, তরুণ-তরুণী এমন কি কিশোর-কিশোরীদের কে ঘন্টা চুক্তিতে রুম ভাড়া দেওয়া হয়। এমনকি এলাকায় বাইরে থেকে অনলাইনে রুম বুক করে অনেক জুটি এখানে এসে সময় কাটায়।
এক এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, এখানে নিয়মিত বাহির থেকে অনৈতিক কাজের উদ্দেশ্যে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা আসে। যা সামাজিক অবক্ষয় চূড়ান্ত রূপ। এখানে দেহ ব্যবসার জন্য নারীর সাপ্লাই দেওয়া হয়। এলাকাটি পাবনা সদর ও ঈশ্বরদী উপজেলার সীমানাবর্তী হওয়ায় এখানে বিদেশিরাও আসে। রাত হলে গাড়ির শব্দ এলাকা বাসি জেগে ওঠে, সারারাত গাড়ি আসা যাওয়ার শব্দ শোনা যায়।
এলাকাবাসীর আরো অভিযোগ এখানে শুধু দেহ ব্যবসায়ী নয় নিয়মিত জুয়া খেলা হয় এবং মাদকের আড্ডা বসে। এলাকার যুব সমাজ জুয়া এবং মাদকের প্রভাবে ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। নেশা এবং জুয়ার টাকা যোগাড় করতে এলাকার যুবকেরা নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িত হচ্ছে। রাতভর উচ্চশব্দে গানবাজনা ও অবাধ মেলামেশার সুযোগ দিচ্ছে, এতে সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তরুণ-তরুণীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে যোগদান করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জামিল মোরসালিন বলেন, আমরা কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই, আমরা কোন প্রতিষ্ঠানে বিরুদ্ধে নই, আমাদের সমাজটা যেন ধ্বংস না হয়ে যায় আমরা আমার ভাইয়ের ভবিষ্যতের চিন্তা করে আমার বোনের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আজ এখানে দাঁড়িয়েছি। আমাদের সমাজটা যেন ধ্বংস না হয়ে যায় সেজন্য এখানে দাঁড়িয়েছি। আমরা দেখছি সকালে ছোট ছোট ছেলে মেয়ে স্কুল কলেজের ড্রেস পড়ে এসে নৈতিক কাজ লিপ্ত হচ্ছে । রিসোর্টের আশেপাশে কৃষি জমিতে গ্রামের লোকজন কাজ করতে গিয়ে বিবৃতকর পরিস্থিতির শিকার হয়। আমার ভাই যেন নেশাগ্রস্ত না হয়, তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় না হয়, সমাজকে বাঁচাতে এই মুহূর্তে রিসোর্ট বন্ধ করা দরকার আর এখন যদি তা না হয় আমরা ভবিষ্যতে বৃহত্তর কর্মসূচিতে যাব।
মানববন্ধনে এলাকার হাজারও বেশি নারী পুরুষ অংশ নিয়ে প্রশাসনের কাছে দাবী করেন অবিলম্বে রিসোর্টকে উচ্ছেদ করে এলাকার কোমলমতি শিশু কিশোর, তরুণ ও যুবকদের সুস্থ সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠার এবং সকল খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার পরিবেশ সৃষ্টি করে দেওয়া হোক। মানববন্ধন শেষে এলাকার নারী পুরুষ ঝাড়ুহাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন সমাজ প্রধান সামসুল আরেফিন রুকু বিশ্বাস, দাপুনিয়া ইউনিয়ন যুবনেতা আতিয়ার রহমান, বকুল হোসেন, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহি বিশ্বাস, ঢাকা ইউরোপীয়ান ইউনিভার্সিটি ছাত্রনেতা আমির ফয়সাল, বিইউবিটি ইউনিভার্সিটির ছাত্রনেতা মেহেদী হাসান গালিব, এ্যাডওয়ার্ড কলেজ ছাত্রনেতা সহ এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে সত্যলোক রিসোর্ট এর কর্ণধার শরিফুল ইসলাম জনির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রিসোর্ট টি এখনো আন্ডার কনস্ট্রাকশনে আছে, আর আজ যারা মানববন্ধন করেছে তারা রিসোর্ট তৈরীর সময় থেকেই আমার সাথে ছিল এবং প্লানিং থেকে শুরু করে উদ্বোধন সব তারা করেছে। এখন কি স্বার্থে তারা আমার থেকে সরে গেছে সেটা আপনাদেরকে বুঝতে হবে। আমি একজন সাইকোলজিস্ট আমি এখানে থাকি না আমি ঢাকাতে থাকি। কিন্তু আজ তারা কেন আমার শত্রু হয়ে গেছে এটা আমার কাছে অজানা।
তিনি অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এলাকার সাধারন মুরুব্বীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখেন তারা বলতে পারবে আমি এলাকার সবার সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি।
এফপি/জেএস