বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দৌছড়ি ইউনিয়নের তুলাতলি এলাকায় ২ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ রিয়াজ উদ্দিন (২৮) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। তবে এ ঘটনায় উদ্ধার অভিযানের আড়ালে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ উঠায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে দৌছড়ি ইউনিয়নের তুলাতলি এলাকা থেকে রিয়াজ উদ্দিনকে আটক করা হয়। আটক রিয়াজ একই এলাকার শিলঘাটা তুলাতলি গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, আটক অভিযানের সময় তার কাছ থেকে প্রায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজার পিস ইয়াবা আত্মসাৎ করা হয়। পরে মাত্র ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ তাকে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আটক অভিযানে জড়িত সিএনজি চালক হানিফ ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্য আবু বক্কর দায়িত্বের অপব্যবহার করে ইয়াবা আত্মসাৎ করেন। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়।
এলাকার একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “প্রথমে শোনা যায় প্রায় ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু পরে মাত্র ২ হাজার পিস ইয়াবা থানায় জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রাম পুলিশ সদস্য আবু বক্কর বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে ১০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে ৮ হাজার পিস গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক নয়। আমি ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।”
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বাতেন মৃধা বলেন, “সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রিয়াজ উদ্দিনকে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করে থানায় নিয়ে আসে। গ্রাম পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
এদিকে সচেতন মহলের মতে, মাদকবিরোধী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে—এমন যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা জরুরি। তারা বলছেন, মাদক নির্মূলে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, বরং অভিযানে জড়িতদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এফপি/জেএস