‘ভোট দিয়া শান্তি পালুং বাপ, কতদিন আর বাঁচিম। আজকের মতো শান্তিতে আর ভোট দিই নাই কোনো দিন।’ কথাগুলো বলছিলেন নব্বই বছর বয়সী আছিমন বেওয়া।
বৃহস্পতিবার সকালে নাতি এরশাদুল মিয়ার কোলে চেপে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ভোটকেন্দ্রে হাজির হন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মোট ১১ বার ভোট দিলেন আছিমন বেওয়া। তিনি কুড়িগ্রাম জেলা শহরের ভোগডাঙ্গা মডেল কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
পাশের কেন্দ্র কুড়িগ্রাম রিভার ভিউ হাই স্কুলে ভোট দেন শারীরিক প্রতিবন্ধী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘হাঁটতে পারি না, রিকশায় করে এসেছি চর কুড়িগ্রাম থেকে। আগে বাড়ির পাশেই ভোটকেন্দ্র ছিল। এবার ১ কিলোমিটার দূরে। তাই ভোট দিতে একটু কষ্ট হয়েছে।’
একই কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ভোট দেন তরুণী খোদেজা পারভীন। উচ্ছ্বাসভরা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো ভোট দিলাম। একসঙ্গে দুটি ভোট দিলাম। আজকে ভোটের দিনটা মনে হচ্ছে ঈদের দিন।’
কুড়িগ্রামের ৪টি আসনে ৭০৬টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ৮৭১টি ভোটকক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এর মধ্যে ৩৮৫টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত। জেলায় মোট ভোটার ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯৩৭ জন, যার মধ্যে নারী ভোটার পুরুষের চেয়ে ৯ হাজারের বেশি। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোথাও সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রগুলোতে বিরাজ করছে স্বস্তি আর প্রত্যাশার আবহ।
এফপি/অ