লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, “চাঁদাবাজরা এখন বিএনপির নেতৃত্বে দিচ্ছে। দেশের ব্যাংক লুটেরারাই এখন বিএনপিতে রাজত্ব করছে। আমি নিজেও একসময় এই বিএনপিতে ছিলাম, কিন্তু তাদের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে দল ছেড়ে চলে এসেছি। বিএনপির দেশ পরিচালনার কোনো সক্ষমতা নেই। তাঁরা ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, ব্যাংক লুটেরারাই দেশে রাজত্ব করবে।”
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধায় বাঁশখালী জলদী পাইলট হাই স্কুল মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের (জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী) জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “বাঁশখালীতে আমি অনেক জনসভা করেছি, কিন্তু আজকের মতো এত বড় জনসভা আগে দেখিনি। এটি প্রমাণ করে, বাঁশখালীর মানুষ পরিবর্তন চায়। দেশ এখন দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে ভিনদেশি শক্তির দালালেরা, অন্যদিকে আমরা বাংলাদেশিরা। বিএনপি এখনও ভিনদেশী শক্তির বাইরে কথা বলতে পারছে না। তাই বাঁশখালীর জনগণ আগামী নির্বাচনে চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের বয়কট করে ১১ দলীয় জোটের সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থী অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলামকে নির্বাচিত করবে।”
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “রতনে রতন চিনে বলেই শহীদ জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহচর কর্নেল অলি আহমদ ও এনসিপির নেতারা আজ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রয়েছেন। আমরা নাকি মদিনার ইসলাম নই—সমস্যা নাই, আমরা মক্কার ইসলাম। কারণ মক্কায় না গেলে হজ কবুল হয় না। আল্লাহর সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে—আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে।”
এ সময় জনসভায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবু নাছের ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা আরিফ উল্লাহর যৌথ সঞ্চালনায়, উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসমাইলের সভাপতিত্বে, জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলাম খান, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ বদরুল হক, চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মাহাবুবুর রহমান হানিফ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক প্রমুখ।
এদিন সমাবেশ শুরুর আগে দুপুর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা বাঁশখালীর জলদী পাইলট হাই স্কুল মাঠে জড়ো হন। এতে বিকেল হতেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় জেলা ও উপজেলা জামায়াত এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরসহ ১১ দলীয় জোটের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এফপি/জেএস