Dhaka, Saturday | 29 August 2026
         
English Edition
   
Epaper | Saturday | 29 August 2026 | English
শিরোনাম:

পটুয়াখালীতে স্কুল অনিয়ম নিয়ে অভিভাবকদের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৫ পিএম  (ভিজিটর : ১৯৭)

পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবম থেকে দশম শ্রেণিতে প্রমোশন পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিভাবকরা। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষায় অনিয়ম, শিক্ষক সিন্ডিকেট ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এইচ.এম. নাজমুল হোসাইন জানান, ২০২৫ সালের নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রমোশন পরীক্ষায় সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। কারও কারও ক্ষেত্রে ১টি থেকে শুরু করে ৭–৮টি বিষয়ে ফেল করার ঘটনা ঘটেছে, যা তাদের মতে অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ।

অভিভাবকদের অভিযোগ, পছন্দের কিছু শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে নাজেহাল করা হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে ফেল করানো হয়েছে। তারা দাবি করেন, করোনাকাল ও পরবর্তী সময়ে শিক্ষাব্যবস্থায় অটোপাস, মোবাইলভিত্তিক অ্যাসাইনমেন্ট ও পরিবর্তনশীল কারিকুলামের কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারেনি, যার দায় শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো হয়েছে।

আরও অভিযোগ করা হয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কিছু শিক্ষক ক্লাস নেওয়া ও ক্লাস টিচার হওয়ার সুযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতে চাপ সৃষ্টি করতেন। যারা প্রাইভেট পড়েনি, তাদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে অভিভাবকদের দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তোলা হয়—তৃতীয় শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো বিষয়ে ফেল না করা শিক্ষার্থীরা হঠাৎ করে চূড়ান্ত প্রমোশন পরীক্ষায় কেন গণহারে অকৃতকার্য হলো। একইসঙ্গে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক ছাড়া অন্য শিক্ষকদের দিয়ে খাতা মূল্যায়ন, পরীক্ষার খাতা না দেখানো এবং ফলাফল প্রকাশে অস্পষ্টতা নিয়েও আপত্তি জানান তারা।

অভিভাবকদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাবেক অধ্যক্ষের অপসারণ ও কয়েকজন মেধাবী শিক্ষকের বদলির পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে বরিশাল বিভাগের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত স্কুলটি বর্তমানে শিক্ষা সংকটে পড়েছে বলে তারা মনে করেন।

তারা আরও বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারা, একই শ্রেণিতে দীর্ঘদিন আটকে থাকা এবং নিবন্ধন পরিবর্তনে বোর্ডসংক্রান্ত জটিলতার আশঙ্কায় অভিভাবকরা চরম দুশ্চিন্তায় আছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ১৮ জন ছাত্রী ও ৮ জন ছাত্রকে প্রমোশন দেওয়া হলেও অধিকাংশ অকৃতকার্য শিক্ষার্থী সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অভিভাবকদের আন্দোলন ও গণমাধ্যমের ভূমিকার কারণে এরই মধ্যে একটি শিক্ষা সফর স্থগিত করা হয়েছে বলেও তারা জানান।

অভিভাবকদের দাবি, এডিসি (শিক্ষা) এর নির্দেশে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েছে। তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।

শেষে অভিভাবকরা সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, শিশুদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য। একই সঙ্গে নবম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণিতে শর্তবিহীন প্রমোশনের দাবি জানিয়ে প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কথাও জানান তারা।

এ সময় অভিভাবকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আ.জলিল, নাহরিন আক্তার, কাকন কর্মকার, নাজমুল নাহার অনু। এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য এডিসি শিক্ষা এবং বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ (ম্যাজিস্ট্রেট) কে ফোন করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

এফপি/জেএস

সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝