টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানি বাড়তে থাকায় পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু পানিতে ডুবে গেছে। ঝুঁকি এড়াতে শনিবার দুপুর থেকে সেতুটি দিয়ে চলাচলে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে হ্রদের পানি ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন স্পর্শ করে। উজান থেকে পানি আসা অব্যাহত থাকায় শনিবার সকাল নাগাদ সেতুর ওপর প্রায় চার ইঞ্চি পানি উঠে যায়। ফলে ঝুঁকি বিবেচনায় সেতুতে দর্শনার্থীদের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পর্যটন করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, চেঙ্গী, মাইনী ও কাচালং নদী এবং ভারতের মিজোরাম রাজ্য থেকে উৎপত্তি হওয়া কর্ণফুলী নদীর পানি কাপ্তাই হ্রদে এসে মিশছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কয়েক দিন ধরে হ্রদে পানির উচ্চতা বাড়ছে।
রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, হ্রদে পানি বাড়ার কারণে শনিবার সকালে ঝুলন্ত সেতুর ওপর চার ইঞ্চি পানি উঠে যায়। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সেতু দিয়ে পারাপার বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি কমে গেলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেতুটি আবার দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
এদিকে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট। হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট।
বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিট থেকে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। কেন্দ্রটির সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ২৪২ মেগাওয়াট।
হ্রদে পানির উচ্চতা আরও বাড়লে পর্যটনকেন্দ্রসহ আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এফপি/ফ