কক্সবাজার পৌরসভার উত্তর নুনিয়ার ছড়ার প্যারাবন সংলগ্ন সমুদ্রতট এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৫ এর অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।
অভিযানে ৬ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১০ কেজি হিরোইন সদৃশ্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রপথে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত দুই কুখ্যাত মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব-১৫ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েকশ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত চক্রটি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধভাবে সমুদ্রপথে মাদক চোরাচালান করে আসছিল। তারা মাছ ধরার ট্রলার ব্যবহার করে গভীর সমুদ্র থেকে মাদকের বড় চালান এনে প্রথমে উপকূলীয় দুর্গম এলাকায় মজুদ করত। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে এসব মাদক কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরীতে সরবরাহ করা হতো।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—চকরিয়া উপজেলার চরণদ্বীপ এলাকার মৃত হোসেন আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল (৪৩) এবং উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী এলাকার মৃত সাবের আহমেদের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪২)। র্যাব জানায়, তারা দুজনই দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকা কুখ্যাত মাদক কারবারি।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, সরকার ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি বাস্তবায়নে র্যাব শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদক ছাড়াও সন্ত্রাস, অপহরণ, খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ সমাজে বিরাজমান নানা ধরনের অপরাধ দমনে র্যাব-১৫ নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কক্সবাজার অঞ্চলে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে মোট ৫৮ লাখ ১৭ হাজার ২৮৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ২০২৬ সালের শুরুতেই গত ৭ জানুয়ারি ও ১২ জানুয়ারি পৃথক অভিযানে আরও প্রায় ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যা মাদকবিরোধী অভিযানে র্যাব-১৫ এর ধারাবাহিক সাফল্যের প্রমাণ।
র্যাব জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মাদক চক্র উত্তর নুনিয়ার ছড়ার প্যারাবন সংলগ্ন সমুদ্রতটে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য লুকিয়ে রেখেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে র্যাব-১৫ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে র্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করলে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে সমুদ্রতটের বালির নিচে পুঁতে রাখা চারটি বড় প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তাগুলো তল্লাশি করে সেখান থেকে ৬ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১০ কেজি হিরোইন সদৃশ্য মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য দেশের যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি বড় ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল। এসব মাদক বাজারে ছড়িয়ে পড়লে সমাজে অপরাধপ্রবণতা ও মাদকাসক্তি আরও ভয়াবহ রূপ নিত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগী, অর্থদাতা ও পরিবহনকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।র্যাব-১৫ জানিয়েছে, সীমান্ত ও উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবহার করে মাদক চোরাচালানকারীদের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে র্যাব-১৫ ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করবে।
এফপি/জেএস