পিরোজপুর-২ (কাউখালি, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহমুদ হোসেন (ঘোড়া প্রতীক)-এর নির্বাচনী প্রচারণা ক্যাম্পে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে নেছারাবাদ উপজেলার স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত তার নির্বাচনী ক্যাম্পে এ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একদল দুর্বৃত্ত ক্যাম্প অফিসে ঢুকে চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং মাহমুদ হোসেনের কয়েকজন কর্মীর ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারেক রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ছবি সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বুধবার (২১ জানুয়ারি) নির্বাচনী প্রতীক পাওয়ার পর তিনি বৃহস্পতিবার ছারছীনা দরবার শরীফে মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। জিয়ারত শেষে স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনী ক্যাম্পে একটি আলোচনা সভা চলাকালে বিএনপি প্রার্থী আহমদ সোহেল মঞ্জুর সুমনের সমর্থক নাসির তালুকদার, তার ভাইসহ কয়েকজন ব্যক্তি অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।
তিনি আরও দাবি করেন, হামলার ঘটনায় তার কয়েকজন কর্মী আহত হন এবং ক্যাম্প অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এমনকি তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত দুইজন পুলিশ সদস্যের সামনেই এ হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে যৌথভাবে মহড়া চালানোর মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ফিরে আসে। নিরাপত্তাজনিত কারণে পুলিশের প্রহরায় মাহমুদ হোসেনকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখা যায়।
মাহমুদ হোসেন বলেন, “ভোটের আগেই এ ধরনের হামলা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পথে বড় বাধা। এসব ঘটনা আমাকে শেখ হাসিনা আমলের পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেয়। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন তালুকদার বলেন, “এই ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাদের অফিসে হামলা হয়েছে কি না, সেটাও আমার জানা নেই।”
এ বিষয়ে স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেন বলেন, “যতদূর জানি, মাহমুদ হোসেন বিএনপির বহিষ্কৃত ব্যক্তি। তিনি দলের শীর্ষ নেতাদের ছবি ব্যবহার করে সভা করছিলেন। এ নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল বলে শুনেছি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানব।”
এফপি/অ