শরীয়তপুরের বীরঙ্গনা যোগমায়া মালো (৬৯) মারা গেছেন। সোমবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিন মধ্যপাড়া এলাকায় ছেলের ভাড়া বাসায় তিনি মারা যান। তিনি ক্যান্সারসহ বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।
সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন তাকে রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় বিদায়ী শ্রদ্ধা জানান। এরপর স্বজনেরা তাকে মধ্যপাড়ায় অবস্থিত এলাকার শশ্মানে নিয়ে যান। সন্ধ্যার পর সেখানে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযোদ্ধারা ও স্বজনেরা জানান, দক্ষিণ মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত নেপাল মালোর স্ত্রী যোগমায়া মালো। ১৯৭১ সালের ২২ মে মধ্যপাড়া গ্রামে গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও রাজাকাররা। সেদিন যোগমায়া মালোর স্বজনদের হত্যা করে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্তানিদের মাদারীপুরের ক্যাম্পে। আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। স্বাধীনতার দুই বছর পর স্বামী নেপাল মালো মারা যান। এরপর তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে শুরু করেন কষ্টের জীবন। দারিদ্র্য আর কষ্ট যোগমায়া মালোর পিছু ছাড়েনি। স্বাধীনতার পর নানান চাপে শ্বশুর আর স্বামীর ভিটেমাটি হারাতে হয়েছে। স্থানীয় স্কুলশিক্ষক শ্যামল রায়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দুই ছেলে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতায় ২০১৮ সালে বীরাঙ্গনার তালিকায় নাম ওঠে যোগমায়া মালোর। পেতে শুরু করেন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা। ভাতার টাকায় অসুস্থ্য যোগমায়ার চিকিৎসা ব্যয় চলছিল।
গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিনে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম যোগমায়া মালোর পরিবারকে একটি একতলা পাকা ভবন বুঝিয়ে দেন। ওই ভবনটিতে মৃত্যুর আগে এক রাত্রি কাটিয়েছিলেন অসুস্থ্য যোগমায়া।
যোগমায়ার পূত্রবধূ ডলি রানী মালো বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ আমার শাশুরী অসুস্থ্য হয়ে শয্যাসায়ী। সর্বশেষ ৬ মাস আগে তার ক্যান্সর সনাক্ত হয়। কেমো থেরাফি চলছিল। এমন অবস্থার মধ্যে তিনি মারা গেলেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, আমরা আসলে মর্মাহত। বীরাঙ্গনা যোগমায় মালোর জন্য কিছুদিন আগে একটি সরকারি ঘর দিয়েছিলাম। তিনি সেখানে কয়েকদিন ছিলেন। আজ তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। আমরা তাকে সসম্মানে বিদায় জানিয়েছি। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদান, ত্যাগস্বীকার জেলাবাসী সব সময় মনে রাখবে।
এফপি/জেএস