শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় আলোচিত ঔষধ ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস হত্যা মামলার তিন আসামিকে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। যৌথ অভিযানে র্যাব-৮ ও র্যাব-১৪ সদস্যরা তাদের আটক করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), একই এলাকার সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১) এবং শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মাদারীপুর র্যাব-৮ ক্যাম্পে আয়োজিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-৮ এর অধিনায়ক কমান্ডার শাহাদাত হোসেন (জি,এন পিপি বিএন)।
র্যাব জানায়, শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলার পূর্ব কৈলানপুর থানাধীন বাজিতপুর এলাকায় র্যাব-৮ (বরিশাল) ও র্যাব-১৪ (কিশোরগঞ্জ) এর যৌথ অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত বুধবার রাতে ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকার বাসিন্দা ঔষধ বিক্রেতা ও মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের এজেন্ট খোকন চন্দ্র দাস দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন। এ সময় আসামিরা তাকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে তিনি হামলাকারীদের চিনে ফেললে তার শরীর ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে তিনি মারা যান।
ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিহত খোকন দাসের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে ডামুড্যা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়। পরে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে যে, টাকা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই খোকন দাসের ওপর হামলা চালানো হয়। খোকন দাসের কাছে ব্যবসার কিছু নগদ টাকা ছিল, সেই টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই তারা এ নৃশংস হামলা চালায়।
র্যাব-৮ এর অধিনায়ক কমান্ডার শাহাদাত হোসেন বলেন, খোকন দাসের কাছে ব্যবসার টাকা থাকার তথ্য পেয়ে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়। বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এফপি/অ