কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ মন্দির এলাকায় যাওয়ার প্রধান সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চৌমুহনী থেকে চেরাংঘাটা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার পথের অর্ধেক অংশ ভরা ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে। বর্ষায় এসব গর্তে পানি জমে ছোট ছোট পুকুরে পরিণত হয়, শুকনো মৌসুমে ধুলাবালিতে পথ অচল হয়ে যায়। ফলে পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এই সড়ক দিয়ে যেতে হয় চেরাংঘাটা বড় ক্যাং, লালচিং, সাদাচিংসহ অন্তত ছয়টি বৌদ্ধবিহারে। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা নিয়মিত এসব ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানে ভ্রমণ করেন। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে তাদের ভ্রমণ আনন্দ ভোগান্তিতে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এভাবে অব্যবস্থাপনা চলতে থাকলে পর্যটনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।
ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, “মন্দির দেখতে আসাটা ছিল আনন্দের বিষয়। কিন্তু রাস্তায় আসতে গিয়েই সব আনন্দ শেষ হয়ে গেছে। এত খারাপ রাস্তা দিয়ে আবার আসতে চাই না।”
স্থানীয় দোকানিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা বলছেন, গাড়ি চলাচল কমে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা চলছে। বিশেষত বিদেশি পর্যটকেরা সড়কের দুরবস্থার কারণে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। স্কুল-কলেজে পৌঁছাতে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয় প্রতিদিনই। কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষও বাজারে যেতে বিপাকে পড়ছেন।
রামু পুরাকীর্তি অধ্যক্ষ করুনা শ্রী মহাথেরো বড়ুয়া বলেন, “রাস্তার অবস্থা এত খারাপ যে কোনো যানবাহন ঢুকতেই চায় না। এতে শুধু পর্যটকেরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন না, স্থানীয় মানুষের জীবনও দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।"
স্থানীয় সাংবাদিক নিজাম উদ্দীন বলেন, 'এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে। কিন্তু তিন-চার বছর ধরে কোনো সংস্কার হয়নি। এটা রীতিমতো অবহেলা।”
রামু ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষক প্রফেসর ফিরোজ বলেন, “এ সড়কটি শুধু পর্যটন নয়, ফকিরা বাজার, বাঁশ বাজার, নাইক্ষ্যংছড়ি ও গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ। এভাবে পড়ে থাকলে সমগ্র এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হবে।”
রামু উপজেলা জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমদ প্রিন্স বলেন, “এই সড়ক আমাদের উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। কিছু অংশে কাজ হয়েছে, তবে পুরোটা সংস্কার বাকি আছে। দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, “চৌমুহনী এলাকা ও আশপাশের যানজট এবং সড়কের বেহাল অবস্থা দূরীকরণে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই সংস্কার কাজ শুরু হবে।”
এখানে অবস্থিত দেশের অন্যতম ১ শত ফুট বৌদ্ধ মন্দিরসহ প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির ও বিহার। প্রতিবছর দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক আসেন। স্থানীয়দের জন্য বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। সড়ক সংস্কার না হলে দুর্ঘটনা ও পর্যটন খাতের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
জানা যায়, রামুর বৌদ্ধ মন্দির শুধু ধর্মীয় আচার বা ঐতিহাসিক নিদর্শন নয়, বরং দেশের পর্যটন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। অথচ এর মূল প্রবেশপথ বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে আছে। স্থানীয়রা মনে করেন, সড়ক সংস্কার দ্রুত না হলে পর্যটনের ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে ভোগান্তি কমবে, আর রামুর ঐতিহ্যবাহী মন্দির এলাকায় পর্যটকের সংখ্যা আবারও বাড়বে।
এফপি/রাজ