জামালপুরের মাদারগঞ্জে গুনারিতলা ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক না থাকায় সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে করে ইউনিয়নবাসী জরুরী সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
জানা গেছে, পূর্বে দায়িত্বরত প্রশাসক ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা নূরে আলম সৌরভ গত ৪ আগস্ট তার বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে ওই পদে আর নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে ২৩ দিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের দৈনন্দিন কার্যক্রম, বিশেষ করে জনসেবামূলক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদে আসা সাধারণ মানুষ ওয়ারিশ সনদ, নাগরিকত্ব সনদ, চারিত্রিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। প্রশাসক না থাকায় সেবাপ্রার্থীদের দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে, কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যও পাচ্ছেন না।
আরও জানা গেছে, শুধু সনদই নয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, বিভিন্ন ভাতা (বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী), সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নসহ প্রায় সব কার্যক্রমই বন্ধ হয়ে রয়েছে প্রশাসকের না থাকার ফলে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার বাবার ওয়ারিশ সনদ লাগবে জমিজমার কাজে। গত তিন দিন ধরে ইউনিয়ন অফিসে ঘুরছি, কেউ ঠিক করে বলতে পারছে না, কখন পাবো।”
শাহজাহান আকন্দ নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একটি ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন। কয়েকদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরঘুর করছি। প্রশাসক না থাকায় পাচ্ছি না।
গুনারিতলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো.কিয়ামতুল্লাহ কাশু বলেন, “বর্তমানে পরিষদে কোনো প্রশাসক নেই। এর ফলে আমরা জনপ্রতিনিধিরা জনগনের সেবা দিতে পারছি না। দ্রুত প্রশাসক নিয়োগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির শাহ নাদির বলেন, গুনারীতলা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক না থাকায় ইউনিয়নের মানুষ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নাগরিকের সেবার বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা ইতোমধ্যে প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। আশা করি আগামী সপ্তাহে সেটি বাস্তবায়ন হবে। এতে করে ইউনিয়নবাসীর ভোগান্তি দূর হবে।
এফপি/রাজ