ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় কিশোর দিদার হোসেন (১৫) হত্যা মামলার আসামি এরশাদ মিয়া ও মাহিদ মিয়াকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার চৌবেপুর বাজার সড়কে নিহত দিদারের নিজ গ্রামে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে ছেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন দিদারের বাবা, দাদি ও স্বজনরা। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মেহারী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক স্বপন মিয়া, কাজী মানিক, শিক্ষক ইসমাইল হোসেন, আবু সাহেল, সিরাজুল ইসলাম, মহিউদ্দিন হায়দার, আব্দুল জলিল, রুবেল মিয়া, এইচ এম ইসমাইল রেজা, তুহিন রেজা ও আশরাফ জুয়েলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, দিদার ছিল একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সামান্য একটি বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে বাড়ি ফেরার পথে ক্ষিপ্ত হয়ে মাহিদ পেছন থেকে হাতে থাকা দা দিয়ে দিদারের মাথায় কোপ দেয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
বক্তারা আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে নিহতের পরিবারসহ এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, গত ২১ অক্টোবর দুপুরে নারিকেল পাড়া নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে প্রতিবেশী মাহিদ মিয়া দা দিয়ে দিদার হোসেনকে পেছন থেকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে কুমিল্লায় নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ অক্টোবর বিকেলে দিদারের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওই দিন রাতে এরশাদ মিয়া ও মাহিদ মিয়াকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
এফপি/অ