আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়ন প্রশানিক কর্মকর্তা মো. রাজিবুল ইসলাম ইলিশ রক্ষায় সরকারের মানবিক সহায়তা চাল জেলেদের বিতরন না করে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার (১ নভেম্বর) এমন অভিযোগ করেছেন গুলিশাখালী ইউনিয়নের জেলেরা। জেলেদের আরো অভিযোগ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জেলেদের থেকে জনপ্রতি ৩০ টাকা আদায় করেছেন। টাকা না দিলে তিনি তাদের চাল দেয়নি। এ ঘটনায় জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তাদের।
জানাগেছে, ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সরকার মানবিক সহায়তা হিসেবে জেলেদের ভিজিএফ চাল বরাদ্দ করেছে সরকার। প্রত্যেক জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেন। আমতলী উপজেলার সাত হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। ওই সাত হাজার জেলের জন্যই সরকার চাল বরাদ্দ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের এক হাজার ৮৫০ জেলের জন্য ৪৬.২৫ মেট্টিক টন বরাদ্দ চাল বিতরন না করে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাজিবুল ইসলাম আত্মসাৎ করেছেন। চাল ইউনিয়ন পরিষদে বিতরনের কথা থাকলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাজিবুল ইসলাম তা না করে আমতলী উপজেলা খাদ্য গুদামে বিতরন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা জেলেদের কাছ থেকে ভাড়া বাবদ জনপ্রতি ৩০ টাকা করে আদায় করেছেন বলে জানান জেলে রাকিব ও সোহাগ।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, গুলিশাখালী ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাজিবুল ইসলাম গত রবিবার ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের ৭ শতাধিক জেলেদের জন্য ১৮ মেট্রিকটন চাল খাদ্য গুদাম থেকে ছাড় করে নেন। ওই চাল প্রশাসনিক কর্মকতা নয়ছয় করে বিতরন করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে ৬ শতাধিক জেলেদের চাল বিতরনের জন্য আমতলী উপজেলা খাদ্য গুদাম অফিসে তাদের ডেকে আনেন। জেলেরা যথারীতি খাদ্য গুদামের সামনে আসলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাজিবুল ইসলাম অল্প কিছু জেলেদের মধ্যে চাল বিতরন।
তালিকায় নাম না থাকার অযুহাত দেখিয়ে কয়েক শত জেলেদের চাল না দিয়ে ফিরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন ডালাচারা গ্রামের জেলে জাকির হাওলাদার ও মোকলেস চৌকিদার।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা খাদ্য গুদাম থেকে ১০ মেট্টিকটন চাল কাগজে কলমে ছাড় করে জেলেদের না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। জেলেদের মাঝে বিতরণকৃত তালিকায় স্বাক্ষর ও টিপসই যাচাই করলেই চাল আত্মসাতের রহস্য বেড়িয়ে আসবে বলে জানান জেলেরা। ডালাচারা গ্রামের জেলে জাকির হাওলাদার ও মোকলেস চৌকিদার বলেন, ইউনিয়নের ৫, ৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডের শতাধিক নিবন্ধিত জেলেদের ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রাজিবুল ইসলাম তালিকায় নাম নেই বলে চাল না দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তাদের।
খেকুয়ানী গ্রামের জেলে মোস্তফা হাওলাদার বলেন, আমার জেলে নিবন্ধন কার্ড থাকলেও তালিকায় নাম নেই বলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাজিবুল ইসলাম চাল দেয়নি। আমতলী খাদ্য গুদামের চাল বিতরন কাজে নিয়োজিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ৩৬ মেট্টিক টন চাল ছাড় করে নিয়েছেন। বাকী চাল নেয়নি।
গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাজিবুল ইসলাম টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি।
সকল জেলেদের মাঝে সঠিকমত চাল বিতরন করা হয়েছে। আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী ও গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক মো. ইদ্রিস আলী বলেন, প্রশাসনিক কর্মর্তা মো. রাজিবুল ইসলামের অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, গুলিশাখালী ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ শুনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এফপি/অ