প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৫ পিএম (ভিজিটর : ২৫)

সংগৃহীত ছবি
নগরীর সড়ক ও ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করা ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের (হকার) পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষে কেসিসির প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সভায় কেসিসির বিভিন্ন বিভাগ ও শাখাপ্রধান এবং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রশাসক বলেন, অবৈধভাবে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের উচ্ছেদের বিষয়ে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ উদ্যোগের প্রতি ব্যাপক সমর্থন দেখা গেলেও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহানুভূতিশীল মানুষের সংখ্যাও কম নয়। তাই সব ধরনের মতামত বিবেচনায় নিতে হবে।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে কেসিসির মালিকানাধীন ১২ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের বর্ধিত অংশসহ বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিকেরা যেন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন এবং কর্মহীন হয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র তথা সরকারের দায়িত্ব। একই সঙ্গে নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচলও নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে সড়ক ও ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভা থেকে কেসিসিকে দেওয়া দায়িত্বের অগ্রগতি, নগরীর সড়ক ও ফুটপাত মেরামত, পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতা এবং সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে সড়ক ও ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য কেসিসির সচিবকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। নগরীর পাঁচটি থানা এলাকায় বিদ্যমান উন্মুক্ত জমি অথবা যান চলাচল কম এমন সড়কে তাঁদের পুনর্বাসনের সম্ভাবনা যাচাই করে পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটিকে।
সভায় প্রশাসক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর খালি জায়গা সংরক্ষণ, কচুরিপানা অপসারণ করা পুকুরগুলোতে পুনরায় কচুরিপানা জন্মানো রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমাতে আগামী এক মাস পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর খুলনায় আগমন এবং এ উপলক্ষে আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে কেসিসির কর্মকর্তা- কর্মচারীদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশনাও দেন তিনি। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের চলমান কার্যক্রমের সুফল স্থায়ীভাবে ধরে রাখতে নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন প্রশাসক।
এ ছাড়া সভায় নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাস্তুহারা এলাকায় বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন, পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে হামের টিকাদান কার্যক্রমের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং আক্রান্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের হামের টিকার আওতায় আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে আগামী ১ নভেম্বর থেকে স্কুলভিত্তিক কিশোরীদের এইচপিভি টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করার বিষয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, বাজেট কাম অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. মনিজরুজ্জামানসহ বিভিন্ন বিভাগ ও শাখাপ্রধান এবং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এফপি/মিব