দীর্ঘ ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) থেকে সাগর ও নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার উপকূলীয় এলাকার জেলেরা। ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় ট্রলার মেরামত, জাল প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহসহ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন তাঁরা।নিষেধাজ্ঞা শেষে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের আশায় বুক বেঁধেছেন জেলেরা। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় ইলিশের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে এবার সাগরে গিয়ে জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে।
তবে নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারি প্রণোদনার চাল বিতরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক জেলে। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৃত জেলেদের অনেকে সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে পান না। জেলেদের তালিকা যাচাই করে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে প্রণোদনা বিতরণ নিশ্চিত করা হলে নিষেধাজ্ঞার সময় তাঁদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করেন তাঁরা।
এদিকে, নিষেধাজ্ঞার সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেদের সাগরে মাছ ধরার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় জেলেরা। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশের জেলেরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকলেও পার্শ্ববর্তী দেশের কিছু জেলে সাগরে প্রবেশ করে মাছ শিকার করেন। এতে দেশীয় জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পটুয়াখালী জেলায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসন। মৎস্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞাকালে জেলায় ৪৮৪টি অভিযান ও ১২৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৪৮ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৬৭টি মামলা করা হয়েছে, ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং প্রায় ২০ লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সাগর ও নদীতে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছিল। এ সময় জেলেরা মাছ ধরা থেকে বিরত ছিলেন। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় তাঁরা আবার মাছ ধরতে যেতে পারবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রজনন মৌসুমে ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির ফলে জেলেরা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ইলিশ আহরণ করতে পারবেন।
এফপি/মিব