Dhaka, Thursday | 22 October 2026
         
English Edition
   
Epaper | Thursday | 22 October 2026 | English
শিরোনাম:

চার জেলার ২৯ বাঁওড় উন্নয়নে ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার প্রকল্প

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৫ পিএম আপডেট: ২২.১০.২০২৬ ৭:০৮ পিএম  (ভিজিটর : ১৫)

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলার ২৯টি বাঁওড়ের মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। পাঁচ বছর মেয়াদি ‘নির্বাচিত বাঁওড় এলাকায় সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পটির আওতায় বাঁওড় খনন, মাছের অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, পোনা উৎপাদনের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।

যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার নির্বাচিত বাঁওড়গুলোতে মাছের উৎপাদন অন্তত ১০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে মূল্যায়নাধীন রয়েছে।

যেভাবে নেওয়া হয় প্রকল্পের উদ্যোগ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যশোরের জেলা প্রশাসক ওই অঞ্চলের বাঁওড়গুলোতে মাছের উৎপাদন বাড়াতে প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেন। এর ধারাবাহিকতায় একই বছরের ডিসেম্বরে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, মৎস্য বিভাগের প্রতিনিধি ও স্থানীয় ব্যক্তিরা অংশ নেন। ওই সভায় প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

পরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৎকালীন সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পটি গ্রহণের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়। এরপর প্রকল্পের জনবল কাঠামো অনুমোদনের জন্য অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়।

বর্তমান সরকারের সময়ে জনবল কাঠামোর অনুমোদন পাওয়ার পর ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় ও কার্যক্রম এখন মূল্যায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

বাঁওড় খনন ও অভয়াশ্রমে গুরুত্ব
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া বাঁওড়ের নির্বাচিত অংশ খনন করে গভীরতা ও পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো হবে। এ খাতে ১১ কোটি ২১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমেও মাছের বসবাস ও বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা করছে মৎস্য অধিদপ্তর।

দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক প্রজননের সুযোগ বাড়াতে ২৯টি বাঁওড়ে অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

পাশাপাশি বিদ্যমান ৩৫টি পোনা উৎপাদন পুকুর সংস্কারে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, খামার যান্ত্রিকীকরণে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ছয়টি গভীর নলকূপ স্থাপনে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাঁওড় ব্যবস্থাপনা ও সম্প্রসারণসেবার অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে জরাজীর্ণ ছয়টি বাঁওড় ব্যবস্থাপকের কার্যালয় পুনর্নির্মাণে ৭ কোটি ৩১ লাখ ৮ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া পাঁচ বছরে ২৯০টি বিল নার্সারি স্থাপনে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং রুইজাতীয় ও দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্তকরণে ৭ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ব্যয়ের সংস্থান রাখা হয়েছে।

বিল নার্সারির মাধ্যমে পোনা লালন-পালনের পাশাপাশি নির্ধারিত জলাশয়ে পোনা অবমুক্ত করে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রকল্পের সরঞ্জাম খাতে আট লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ অর্থে চারটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ, চারটি প্রিন্টার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

মৎস্যজীবীদের সম্পৃক্ত করে ব্যবস্থাপনা গড়ার লক্ষ্য
প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাঁওড়গুলোতে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সম্পৃক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। নির্বাচিত জলাশয়ে অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, মাছের নিরাপত্তায় নজরদারি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, অভয়াশ্রমের নির্ধারিত এলাকায় মাছ আহরণ নিয়ন্ত্রিত থাকবে, যাতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। বর্ষা মৌসুমে মাছ আশপাশের নদী ও বিলে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জেলেরা সেখান থেকে মাছ আহরণ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

সচিব আরও জানান, প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ও বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা বর্তমানে মূল্যায়নাধীন। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এসব বিষয় পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

হালনাগাদ হবে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের তালিকা
মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. খালেদ কনক বলেন, এটি একটি সমাজভিত্তিক মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে বাঁওড়নির্ভর জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের প্রকল্পের ঘাটতি রয়েছে। অনেক বাঁওড় অগভীর হয়ে যাওয়ায় মাছের বসবাস ও উৎপাদনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে জলাশয়ের উন্নয়ন এবং সমাজভিত্তিক ব্যবস্থাপনার কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বাঁওড়ের প্রকৃত মৎস্যজীবীদের তালিকা হালনাগাদ করা প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। নব্বইয়ের দশকে গঠিত মৎস্যজীবী সমিতিগুলোর সদস্যতালিকা দীর্ঘদিন ধরে হালনাগাদ হয়নি। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অন্তর্ভুক্তি, তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মাছ আহরণের সুফল সুষমভাবে বণ্টনের সুযোগ তৈরি হবে।

পাশাপাশি বাঁওড় ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আনুষঙ্গিক সহায়তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

মহাপরিচালক বলেন, প্রকল্পে উল্লিখিত অর্থের পরিমাণ এখনো প্রস্তাবিত ব্যয়। অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা, সরঞ্জামের কারিগরি বৈশিষ্ট্য ও দর এবং প্রস্তাবিত জনবলের যৌক্তিকতা মূল্যায়নের পর ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাঁওড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদের আয় ও জীবিকার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে সমাজভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এর সুফল অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।


এফপি/মিব
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝