জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।
বৃহস্পতিবার সকালে পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী ও আকবর খান, কেন্দ্রীয় সদস্য মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, স্নিগ্ধা সুলতানা ইভা ও মাসুদুর রহমান মাসুদ, কেন্দ্রীয় সংগঠক স্বাধীন মিয়া এবং ঢাকা মহানগর কমিটির আরিফুল ইসলামসহ পার্টির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমকর্মী ও উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
তিনি বলেন, শত বছর আগে কাজী নজরুল ইসলাম এ জনপদের আপামর মানুষের দ্রোহ, প্রতিবাদ, প্রেম ও প্রত্যাশাকে তাঁর কবিতা, গান ও লেখনির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলের নির্যাতিত-নিপীড়িত, শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অব্যক্ত যন্ত্রণা, আকাঙ্ক্ষা, দ্রোহ ও প্রেমের এক অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল তাঁর সৃষ্টিতে।
সাইফুল হক বলেন, অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যভিত্তিক মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই ছিল নজরুলের আরাধ্য। এ কারণে ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের পাশাপাশি ধর্মীয় গোড়ামি ও কূপমণ্ডূকতার বিরুদ্ধেও তিনি ছিলেন আপসহীন ও নিরলস যোদ্ধা।
তিনি আরও বলেন, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে শতাব্দীজুড়ে নজরুল আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে জাতীয় কবি মানুষকে সাহস জুগিয়েছেন। ভবিষ্যতেও তিনি আমাদের ভরসার স্থল হয়ে থাকবেন।
সাইফুল হক বলেন, সৃষ্টিশীল জীবনের শেষ দিকে নজরুল বাঙালি মুসলমানের ধর্মীয় চেতনা ও আবেগকে হামদ, নাত ও গজলের মাধ্যমে অসাধারণ দক্ষতা ও মমতায় ধারণ করেছেন। বাঙালি মুসলমান সম্প্রদায়ের হীনম্মন্যতা কাটিয়ে উঠতেও কবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, শোষণ-বৈষম্যহীন সাম্যবাদী মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কাজী নজরুল ইসলাম ভবিষ্যতেও আমাদের বাতিঘর হয়ে থাকবেন।
এফপি/অ