কক্সবাজারে পৌর শহরে ভাড়াবাসায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের মামলায় অভিযুক্ত নাইটগার্ডকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এসময় ১০ হাজার টাকা অর্থ দণ্ডও দেয়া হয়েছে। তা অনাদায়ে আরো একমাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেছেন। রায়কালে আদালতে উপস্থিত আসামীকে সাজামূলে কারাগারে নেয়া হয়েছে। মামলাটি ট্রাইব্যুনালে আসার ছয়মাসের মাথায় বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে রায় প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল'র পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ছলিমুল মোস্তফা।
সাজাপ্রাপ্ত আসামী আবুল কালাম মালীতা (৫৫) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার হেলাই মাঝপাড়ার বাসিন্দা মৃত গোলাম নবী মালীতা ও মৃত মেহেরুন্ নেছার ছেলে। তিনি কক্সবাজারে একটি হোটেলে নাইটগার্ডের চাকরির পাশাপাশি ভ্রাম্যমান বাদাম বিক্রেতা হিসেবে কাজ করতেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী মতে পিপি ছলিমুল মোস্তফা জানান, কক্সবাজার পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের লাইট হাউস পাড়ায় ভিকটিম শিশুর দাদির ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে ছিলেন অভিযুক্ত আবুল কালাম মালীতা। ২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল বেলা আড়াইটার দিকে দাদি রুবি আকতার তার সাতবছর বয়সী নাতী শিশু কন্যাকে ভবনের ২য় তলার ভাড়াটিয়া ফজলের কাছে সবজি দিতে পাঠায়।
সেখান থেকে ফেরার পথে অন্য ফ্লাটের ভাড়াটিয়া আবুল কালাম মালীতা ভিকটিম শিশুকে ডেকে নাস্তা খাওয়ানোর প্রলোভনে রুমে নেয়। সেখানে মুখ চেপে ধরে জোর পূর্বক পৈশাচিক কায়দায় যৌন নিপীড়ন চালান। দীর্ঘক্ষণ নাতি ফিরে না আসায় খুঁজতে গিয়ে বিকাল ৩টার দিকে নাতি ভিকটিমকে মূর্মূর্ষ অবস্থায় আবুল কালাম মালীতার রুম হতে উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে স্থানীয় জনগণ আবুল কালাম মালীতাকে আটক করেন এবং খবর পেয়ে র্যাব এসে আবুল কালামকে র্যাব হেফাজতে নেয়। ভিকটিমকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
পিপি আরো জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পেয়ে ভিকটিমের চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসার পর নাতি একটু স্বাভাবিক হলে দুদিন পর ২৮ এপ্রিল ভিকটিমের দাদী রুবি আক্তার কক্সবাজার সদর থানায় আবুল কালাম মালীতাকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(১) ধারার অভিযোগ এনে মামলা করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা এস আই কামরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা পেয়ে আসামী আবুল কালামের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। এরপর মামলাটি বিচারে ফেব্রুয়ারিতে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল-এ প্রেরন করা হয় (শিশু সহিংসতা মামলা নং-৭২/২৬)।
আদালত সূত্র জানায়, বিচার কার্য শুরুর পর পিপি ছলিমুল মোস্তফা রাষ্ট্র পক্ষে ৭জন স্বাক্ষী উপস্থাপন করেন। ১৯ আগস্ট মামলার রায় প্রচারের দিন ধার্য ছিল। বিজ্ঞ বিচারক মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, ভিকটিমের ২২ ধারার জবানবন্দী, ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষার রিপোর্ট এবং ৭জন স্বাক্ষীর জেরা জবানবন্দী পর্যালোচনা করেন।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী মামলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমান করতে সক্ষম হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক রবিউল আলম আসামীকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(১) ধারার ধারার দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ডও প্রদান করেছেন। টাকা অনাদায়ে আরো একমাসের বিনা শ্রম কারাদণ্ড প্রদানের রায় প্রচার করা হয়।
পিপি ছলিমুল মোস্তফা বলেন, রায়ে রাষ্ট্র পক্ষ এবং মামলার বাদি ও ভিকটিম সবাই সন্তুষ্ট। আসামীকে সাজা পরোয়ানা মূলে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনাকারি অ্যাডভোকেট এমডি মীর কাশেম বাহাদুর বলেন, রায়ে আমরা ন্যায় বিচার পায়নি। রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা হবে।
এফপি/ফ