বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে বাঘ, হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী শিকারে সক্রিয় ১৫০ জন শিকারিকে চিহ্নিত করেছে বন বিভাগ। তাঁদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে দেওয়া হয়েছে। বন বিভাগের দাবি, তালিকাভুক্ত শিকারিদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে সুন্দরবনে বন অপরাধ আগের তুলনায় কমেছে। বন রক্ষীদের নিয়মিত টহল ও অভিযান জোরদার করায় বন অপরাধীদের তৎপরতা অনেকটাই কমে এসেছে। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী শিকার ও বনজসম্পদ লুটপাটের প্রবণতাও কমেছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, গত এক বছরে সুন্দরবনে ৪৭৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩৯৬ জনকে আসামি করে ২৪১টি মামলা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী শিকারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ১৫০ জন শিকারিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের নাম-পরিচয় সংবলিত তালিকা গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন বাগেরহাট, মোংলা, খুলনার কয়রা ও বরগুনার পাথরঘাটা এলাকার চিহ্নিত চোরা শিকারিদের একটি অংশ বন্যপ্রাণী শিকারে জড়িত। তাঁদের মতে, শিকারিদের পাশাপাশি এই অপরাধের পেছনে থাকা মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা গেলে বন্যপ্রাণী নিধন আরও কার্যকরভাবে বন্ধ করা সম্ভব হবে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত অভিযান, টহল বৃদ্ধি এবং নজরদারি জোরদারের কারণে সুন্দরবনে বন অপরাধীদের তৎপরতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বন্যপ্রাণী শিকার কমে আসায় ধীরে ধীরে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সুন্দরবন ঘিরে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা আরও বাড়ানো গেলে বন অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চিহ্নিত শিকারিদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিকারচক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এফপি/ফ