কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জনবল সংকটের কারণে দাপ্তরিক কাজ ও বিদ্যালয় তদারকিতে চাপ বাড়ছে। অফিসের অনুমোদিত সাতটি পদের মধ্যে বর্তমানে চারটিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও তিনটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে উপজেলার ৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা কার্যক্রম তদারকিতে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে কর্মরতদের।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে কর্মরত আছেন চৌধুরী আজিজুর রহমান। দুটি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদের মধ্যে একটিতে মুসলিম উদ্দিন কর্মরত রয়েছেন। অপর পদটি শূন্য। এছাড়া ইউডিএ ও হিসাব সহকারী পদে দুজন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে অফিস সহকারী ও এমএলএসএসের দুটি পদও শূন্য রয়েছে। অর্থাৎ সাতটি অনুমোদিত পদের মধ্যে চারটিতে জনবল থাকলেও তিনটি পদে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই। এতে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয়, প্রশাসনিক নথিপত্র সংরক্ষণ ও বিভিন্ন সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কর্মরতদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়ছে।
৫৯ বিদ্যালয়ের দায়িত্ব চারজনের ওপর
কুতুবদিয়া উপজেলায় মোট ৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ১২ হাজার ১৮ জন। শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন ৩৬৪ জন। এর মধ্যে ছয়জন শিক্ষক বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক পদেও রয়েছে ঘাটতি। ১৭টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্ব (চ.দা.) পালন করা হচ্ছে। ২৩টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ১৬ জন এবং পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক হয়েছেন তিনজন।
এ বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয়, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের। কিন্তু অফিসের নিজস্ব জনবল সংকট থাকায় নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
ব্যক্তিগত চাপের কথাও জানালেন শিক্ষা কর্মকর্তা
জনবল সংকটের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা চৌধুরী আজিজুর রহমান বলেন, “আমার বাসা নড়াইলে এবং আমার বৃদ্ধ মা একা থাকেন। কর্মজীবী স্ত্রী এবং ঢাকায় পড়াশোনা করা সন্তানের কারণে আমার ওপর চাপ আরও বেড়ে গেছে। বৃদ্ধ মাকে সময় দিতে না পারায় আমি খুবই বিরক্ত।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দূরবর্তী কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ও সামলাতে হচ্ছে তাকে। তবে অফিসের জনবল সংকটের কারণে দাপ্তরিক কাজের চাপও বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শিক্ষার মানোন্নয়ন কার্যক্রমে প্রভাবের আশঙ্কা
প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো বিদ্যালয়গুলো নিয়মিত পরিদর্শন, শিক্ষকদের কার্যক্রম তদারকি, প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা এবং শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা। জনবল কম থাকায় এসব কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় ও শ্রম ব্যয় হচ্ছে।
স্থানীয় শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট অব্যাহত থাকলে বিদ্যালয়গুলোর নিয়মিত তদারকি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও দ্বীপাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত নজরদারি এবং শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
তাদের দাবি, কুতুবদিয়ার ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ৫৯টি বিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের জনবল সংকট দ্রুত সমাধান করা না হলে এর প্রভাব শুধু উপজেলা শিক্ষা অফিসের দাপ্তরিক কাজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বিদ্যালয়গুলোর নিয়মিত তদারকি ও শিক্ষা কার্যক্রমেও পড়তে পারে। তাই শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগ বা পদায়নের দাবি উঠেছে।
এফপি/র