ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসনের প্রধান ২০ জন কর্মকর্তাদের মধ্যে ৫ জনই স্থায়ীভাবে নেই।এই ৫টি দপ্তরগুলোতে ভারপ্রাপ্ত বা অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চালাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।
ফলে,প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা, সমন্বয়হীনতা থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে প্রশাসন। ভারপ্রাপ্তের ভারে রীতিমতো ন্যুয়ে পড়েছেবাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকাণ্ড। যারা দায়িত্ব পালন করছেন,তারাও অতিরিক্ত কাজের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা কালের কন্ঠ কে জানান।
আর এতে মৌলিক নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ১৩ টি ইউনিয়নের সাড়ে ৩ লাখ মানুষ। যথেষ্ট সংখ্যক কর্মকর্তা না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবা গ্রহীতারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.মোস্তাইন বিল্লাহ বদলী হয়ে হয়ে চলে যাবার পর ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন ভেটেনারী সার্জন ডা. সেরদাতুল ইসলাম।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইদা ইসলাম বদলী হয়ে যাবার পর ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে আছেন আক্কাস আলী। তিনি ২ উপজেলায় কর্মরত।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো ফারুক আহমেদ বদলীজনিত কারনে অন্যত্র চলে যাবার পর অতিরিক্ত দায়িত্ব নেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনিও ২ উপজেলায় কর্মরত। তিনি সপ্তাহে ১দিন বাঞ্ছারামপুরে অফিস করেন।
চলমান এইচএসসি পরীক্ষা তাই চলছে ট্যাগ অফিসার দিয়ে। মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাবেয়া সুলতানা ইভা বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পাশাপাশি নবীনগরে দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।
উপজেলা বন কর্মকর্তা মো গিয়াসউদ্দিনের দেখা পাওয়া ভার।জানা গেছে তিনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাড়াও আরো ৩ টি উপজেলার দায়িত্বে আছেন।
দূর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুদকের অঙ্গ সংগঠন) উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন রিপন বলেন,
‘একটি উপজেলা প্রশাসনের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পদই যদি ভারপ্রাপ্ত বা অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে চলে সেখানে সরকারি বা নাগরিক সেবা বলতে আর কি থাকে?’
অনুযোগের সুরে বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামিম শিবলী বলেন, ‘প্রশাসনে ভারপ্রাপ্ত বা অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দীর্ঘসূত্রিতা, সিদ্ধান্তহীনতা ও জবাবদিহিতার অভাবেই মূলত নাগরিকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থায়ী নিয়োগ বা পূর্ণ ক্ষমতার অনুপস্থিতি অনেক সময় কাজের গতি কমিয়ে দেয়।’
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো তারিকুল ইসলাম বলেন,‘বিষয়টি নিয়ে আমরাও সমস্যায় আছি।বিশেষ করে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে মহাসংকটে আছি।কারন,মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একদিন আসেন।সবকিছু মিলিয়ে আমরা দম ফেলার সময় পাচ্ছি না।’
এবিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো.আবু সাঈদের ভাষ্য, ‘প্রশাসনের এতোগুলা পদ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে চালালে সমস্যা তো হবেই।তবে,এটি তো পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর এলাকা।আমরা শীঘ্রই শুন্যপদ পূরনে চাহিদাপত্র সব বিভাগের সাথে কথা বলে জানাব।আশাকরি, পদগুলো পূরণ হয়ে যাবে।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি মুঠোফোনে বলেন, “বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহ দেখছি।খুব দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই ৫ টি সরকারি কর্মকর্তা পূরনের জন্য বলা হবে। যেনো সেবামূলক কার্যক্রমে কোনো স্থবিরতা দেখা না দেয়।”
এফপি/ফ