বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পারদেবডাঙ্গা ফিসপাসের উজানে বাঙ্গালী নদীর ভাঙনে বসতভিটা হারানোর ভয়ে আতংকিত হয়ে পড়েছে ছাগলধরা নয়াপাড়া গ্রামের গরুর খামারীরা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার পারদেবডাঙ্গা ফিসপাসের উজানে বাঙ্গালী নদীর পূর্ব পাড়ে ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ছাগলধরা গ্রামের নয়া পাড়ার নিকট বাঙ্গালী নদীর পানির স্রোত ও গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষনে বসতভিটার জমি ভেঙ্গে যাচ্ছে। সেখানে বর্তমানে নদী ভাঙন অব্যাহত আছে।
নদী ভাঙনের ফলে ছাগলধরা নয়া পাড়ার খামারী মোকলেছ, জিল্লুর, ফজলার, তোফাজ্জল, উকিল, হাকিম, রানা, রুবেল, সফিকুল, ইব্রাহিম, এমদাদুল, আজাদুল, আনিছ, মহসিন, জিয়ারুল ও সামসউদ্দিনের পরিবারের লোকজন চরম আতংকের মধ্যে সেখানে বসবাস করছে।
এসব কৃষক পরিবারের লোকজন গবাদি পশু গরু-ছাগল লালন পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে। সেখানে ১৬টি পরিবারের ১৫-২০ লিটার দুধ দেওয়া দুধেল গাভীসহ ৩ থেকে ৬টি গরু রয়েছে। কোন কোন খামারীর গোয়াল ঘর একেবারে নদীর তীরে অবস্থান করায় এখন নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। এক দিকে পানির স্রোত আর তার সাথে যখন দিনে-রাতে ভারী বৃষ্টি শুরু হয় তখন নদী ভাঙনের ভয়ে চরম আতংকে সময় কাটে এসব পরিবারের লোকজনের।
ভাঙন কবলিত এলাকার লোকজন কলাগাছ,পলিথিন কাগজ এবং অন্যান্য জিনিসপত্র দিয়ে ভাঙনের হাত থেকে বসতভিটা রক্ষার ক্ষুদ্র চেষ্টা করছে। খামারী মহসিন, সামসউদ্দিন ,জিল্লুর,ফজলার, সাংবাদিকদের জানান, বাঙালী নদীর পশ্চিম পাড়ে ছাগলধরা গ্রামে তাদের পুরাতন বাড়ি ছিল।
বাঙালী নদীর ভাঙনের কারণে প্রায় ৪০ বছর আগে পূর্ব পাড়ে এসে বসবাস করছেন। গরুর খামার করে তারা জীবিকা নির্বাহ করে। গত ৩ বছর থেকে নদী ভাঙতে ভাঙতে তাদের বসত ভিটার জমি নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। ২মাস আগে থেকে ব্যাপক নদী ভাঙন শুরু হয়ে ভাঙতে ভাঙতে নদী এখন বসত ঘরের নিকটে এসেছে।
নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে গোয়াল ঘর ও বসত ঘরের জায়গা জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। ফলে খামারীদের একমাত্র উপার্জনের পথ গরু-ছাগল লালন পালন করা অসম্ভব হবে।
ভুক্তভূগি খামারীরা আরো জানান, তাদের বসতবাড়ির উজানে ও ভাটিতে বাঙালী নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী কাজ হলেও তাদের বসত ভিটা রক্ষার জন্য নদী ভাঙন রোধে এখনো কোন কাজ হয়নি। সেখানে নদী ভাঙন রোধে জরুরী ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন ভাঙন কবলিত এলাকার লোকজন।
এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এফপি/ফ