ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নে মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে শতাধিক বসতঘর, প্রায় ২০টি চাতালকল, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে পালপাড়া, শাখাইতি, দেওবাড়িয়া ও লায়ারহাটি গ্রামের শতাধিক পরিবার চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, মেঘনা নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিনিয়ত তীর ভেঙে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত একটি স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করা না হলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হবে। পানিশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. তৌহিদ মিয়া বলেন, বর্তমানে কয়েকশ পরিবার নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
সরাইল উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হানিফ আহমেদ সবুজ বলেন, দীর্ঘদিনের নদীভাঙনের কারণে একসময় সমৃদ্ধ শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত পানিশ্বরের অধিকাংশ চাতালকল ও অটো রাইস মিল নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অথবা বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মহসিন কবির শিহাব জানান, পানিশ্বর এলাকায় ১ হাজার ৩৫০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে ভাঙন প্রতিরোধে কিছু জিওব্যাগও ফেলা হয়েছে।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি উদ্যোগ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ নিশ্চিত করা জরুরি।
এফপি/র