কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সাবেক সভাপতি, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক আতাহার ইকবাল (৭৪) আর নেই।
বুধবার (২২ জুলাই) আসরের নামাজের পর কক্সবাজার শহরের বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় কক্সবাজারের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে কক্সবাজার শহরের টেকপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোকজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান রেখে গেছেন।
১৯৭২ সালে দৈনিক গণকণ্ঠ-এর প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন আতাহার ইকবাল। তিনি একাধারে সাংবাদিক, গীতিকার, সংগীতশিল্পী, বেতার উপস্থাপক এবং বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। জীবদ্দশায় দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কক্সবাজার প্রতিনিধি হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক তরঙ্গ, সাগরবাণী এবং দৈনিক বাঁকখালী-এর প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক পূর্বকোণ, দৈনিক নয়াবাংলা এবং ঢাকার দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক মানবজমিন ও দৈনিক মাতৃভূমি-এর কক্সবাজার প্রতিনিধি ও স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেন। ১৯৭৫ সালে কক্সবাজার প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠায়ও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। শুরুতে জাসদ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে তিনি কক্সবাজার মহকুমা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং যুব সংস্থার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর সভাপতির দায়িত্বও দীর্ঘদিন পালন করেন।
শোক প্রকাশ
সাংবাদিক আতাহার ইকবালের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাফর, কক্সবাজার রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রাসেল চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক সায়ীদ আলমগীর।
শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, কক্সবাজারে সাংবাদিকতা পেশায় তাঁর দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, সততা ও অবদান গণমাধ্যম অঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে কক্সবাজারবাসী একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক, অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যমের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীকে হারিয়েছে। তাঁরা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
এ ছাড়া কক্সবাজারে কর্মরত সাংবাদিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
এফপি/র