জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের মধ্যে খুলনা অন্যতম। অতিবৃষ্টি, তাপদাহ, লবণাক্ততাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় ও সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে শহরমুখী হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বনায়ন ও বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
বুধবার (২২ জুলাই) বেলা ১১টায় নগরীর জাতিসংঘ শিশু পার্কে গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশ সুরক্ষা ও নগর সবুজায়নের লক্ষ্যে নাগরিক ফোরাম-খুলনা নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
কেসিসি প্রশাসক বলেন, নাগরিক ফোরাম খুলনার একটি জনপ্রিয় সংগঠন, যা দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। প্রধানমন্ত্রীর ‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করায় তিনি সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার প্রতিবছর দেশব্যাপী ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সরকারের এ উদ্যোগের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে নিজ নিজ বসতবাড়ির চারপাশ সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও নাগরিক ফোরামের সব কার্যক্রমে সিটি করপোরেশন পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।
নাগরিক ফোরাম-খুলনার কো-চেয়ারম্যান সরদার আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেসিসির এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন এবং নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দের মধ্যে সঞ্জিতা রাণী, মো. মঈন উদ্দিন, সাকিল আহমেদ, আনোয়ার হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নাগরিক ফোরাম-খুলনার মহাসচিব ইকবাল হাসান তুহিন।
অনুষ্ঠানে প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ১৬ থেকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে রোপণের জন্য নাগরিক ফোরামের ওয়ার্ড কমিটির প্রতিনিধিদের হাতে ৫০০টি গাছের চারা তুলে দেন এবং জাতিসংঘ শিশু পার্কে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিগগিরই ১ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে রোপণের জন্য আরও ৫০০টি গাছের চারা বিতরণ করা হবে। পরে বৃক্ষরোপণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
এর আগে কেসিসি প্রশাসক দৌলতপুর থানাধীন মধ্যডাঙ্গা দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসা, মধ্যডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মধ্যডাঙ্গা মেইন রোড এবং বকুলতলা মোড় এলাকায় পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিধন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
এ সময় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, কনজারভেন্সি অফিসার মো. অহিদুজ্জামান খান, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন, আড়ংঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস. এম. ফরিদ আখতারসহ কেসিসির সহকারী প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী, কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর, সুপারভাইজার এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এফপি/র