মুন্সীগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজের ১০ তলা ভবনের একটি লিফটে আটকা পড়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এক মা ও তাঁর দুই বছর বয়সী শিশুকন্যা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। তাদের তাৎক্ষণিক ও দক্ষ পদক্ষেপে মা ও শিশুকন্যাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, দুপুর ২টা ১৪ মিনিটে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনে খবর আসে যে, সরকারি হরগঙ্গা কলেজের ১০ তলা ভবনের নবম তলায় একটি লিফটে এক মা ও তাঁর শিশুকন্যা আটকা পড়েছেন।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জামের সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যেই লিফটের দরজা খুলে মা ও শিশুকন্যাকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন—শিশু মরিয়ম হাসনাইন আরিফা (২) এবং তাঁর মা লামিয়া আক্তার মিম (২৪)। লামিয়া আক্তার মিম সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী।
জানা যায়, ক্লাস শেষে শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে লিফটে নিচে নামার সময় হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লিফটটি নবম তলায় আটকে যায়।
ঘটনার পর কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করলেও লিফটের দরজা খুলতে না পারায় তা সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পেশাদারিত্বের সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে নিরাপদে মা ও শিশুকন্যাকে বাইরে নিয়ে আসেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই লিফটটি বিকল হয়ে আটকে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হননি। বর্তমানে মা ও শিশুকন্যা উভয়েই সুস্থ রয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত সাড়া, পেশাদারিত্ব ও দক্ষ উদ্ধার কার্যক্রমে কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে একটি সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এফপি/র