কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে চলাচলকারী বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ফেরি কুঞ্জলতা মেরামতের জন্য চিলমারী নদীবন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আজ সকালে ফেরিটি চিলমারী ফেরিঘাট থেকে ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়। ফলে বর্তমানে এ নৌপথে একমাত্র ফেরি কদম দিয়েই যানবাহন পারাপার চলছে।
এতে ঘাটে পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ সারি তেরি হয়েছে। পারাপারের জন্য অতিরিক্ত সময় অপেক্ষা করতে হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এতে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি যাত্রীদেরও বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী ফেরিঘাটের ইনচার্জ মো. আকিব সোহেল আকাশ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,‘ফেরিটি ডকে পৌছানোর পর আমরা বিকল্প ফেরির জন্য আবেদন করবো। কেননা ফেরি কুঞ্জলতা মেরামত কাজ শেষ হতে প্রায় ৩মাস সময় লাগবে।’
এর আগে ১৩ জুলাই বিআইডব্লিউটিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. জিয়াউল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, ফেরি কুঞ্জলতার সার্ভে সনদ হালনাগাদ ও ডকিং মেরামতের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে নৌযানটিকে ডক - ১ এ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রাপথে প্রচলিত সব নৌবিধি যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
সরেজমিনে চিলমারী নদীবন্দর ফেরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পারাপারের অপেক্ষায় পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ সারি। একটি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করায় ঘাটে অপেক্ষার সময় বেড়েছে বলে জানান চালকরা।
সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে পাথর নিয়ে আসা ট্রাকচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,‘আগেও ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। এখন একটি ফেরি কমে যাওয়ায় অপেক্ষার সময় আরও বাড়বে। এতে সময় যেমন নষ্ট হবে, তেমনি পরিবহন ব্যয়ও বাড়বে।’
রেল, নৌ-যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নাহিদ হাসান বলেন,‘চিলমারী-রৌমারী নৌপথে প্রতিদিন অসংখ্য পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরেই এ নৌপথে আরও একটি ফেরির দাবি রয়েছে। সেখানে বিদ্যমান একটি ফেরি মেরামতের জন্য সরিয়ে নেওয়ায় পারাপারে চাপ আরও বেড়েছে। সাধারণ মানুষ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত বিকল্প ফেরির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’
এফপি/ফ