Dhaka, Thursday | 13 August 2026
         
English Edition
   
Epaper | Thursday | 13 August 2026 | English
শিরোনাম:

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ : একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:২১ পিএম  (ভিজিটর : ১০০)

দেশব্যাপী আলোচিত সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। আদালত রায়ে আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে সকল আসামিদের উপস্থিতিতে প্রায় ছয় বছর পর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার।

সকাল ১১টার দিকে ধর্ষণ মামলার সকল আসামিদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

জানা যায়, প্রায় আড়াই ঘণ্টায় রায় পড়া শেষ করেন আদালত। রায়ে আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে খালাস প্রদান করেনে আদালত। তারা সবাই ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন।  তিনি জানান, আমরা আদালতে আসামিদের অপরাধ প্রমাণে সক্ষম হয়েছি। আদালতের বিচারক এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এছাড়া চারজনকে খালাস দেয়া হয়।

আসামি পক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষী দেয়নি। ভিকটিমও আসামিদের শনাক্ত করেনি। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।

আদালত সূত্র জানায়, মামলাটি নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হওয়ার পর গত বছরের মে মাসে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। আলোচিত এ মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক ও ওসমানী মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক আদালতে সাক্ষ্য দেন।

এর আগে গত বুধবার (৮ জুলাই) আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ঘটে নারকীয় এ ঘটনা। ওইদিন সন্ধ্যায় ছাত্রাবাস এলাকায় ঘুরতে যান এক দম্পতি। সে সময় স্বামীকে আটকে রেখে নববিবাহিত তরুণীকে (২০) গণধর্ষণ করা হয়। মামলার এজাহারের বর্ণনামতে, ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্বামীকে নিয়ে শাহপরান মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন নির্যাতনের শিকার তরুণী (২০)। ফেরার সময় তারা গাড়ি থামিয়ে ছিলেন নগরের টিলাগড় এলাকার এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে। স্ত্রীকে প্রাইভেটকারে রেখে স্বামী পার্শ্ববর্তী দোকানে গিয়েছিলেন। ওই সময় প্রাইভেটকারটি ঘিরে ধরে কয়েকজন তরুণ। প্রাইভেটকারসহ ওই দম্পতিকে তারা নিয়ে যায় বালুচর এলাকার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ভেতরে। সেখানে স্বামীর সামনেই গাড়ির ভেতর সংঘবদ্ধভাবে তরুণীকে ধর্ষণ করে ছয় তরুণ। পরে তাদের মারধর করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয় ধর্ষকরা। আটকে রাখে তাদের গাড়িও।

ঘটনার রাতেই নির্যাতনের শিকার তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে নগরের শাহপরান থানায় এমসি কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং দু’জনকে অজ্ঞাত আসামি করে এসএমপির শাহপরান থানায় মামলা করেন। প্রাইভেটকারটি আটকে রেখে চাঁদাবাজির ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়। মামলা দু’টি প্রথমে পৃথক চললেও পরে উভয় মামলা একসঙ্গে চলার সিদ্ধান্ত হয়।

ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে সন্দেহভাজন দু’জন ও এজাহারনামীয় ছয় জনসহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা পরে আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়াও ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়।

২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য গ্রেফতার আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। ২০২১ সালের ১০ জানুয়ারি আদালত এই মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচারকার্য শুরু করেন।
 
এফপি/অ
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝