কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চাচাতো ভাইদের লাঠি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মামুন মোল্লা (৩৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এতে আহত হয়েছেন তার পিতা মোজা মোল্লা (৭৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উপজেলার দুর্গম পদ্মা চর চিলমারী ইউনিয়নের শুকারঘাট এলাকায় জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধ ও চুরির অপবাদ ঘিরে শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকালে হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে উজ্জ্বল মোল্লা (৪৮) ও জাব্বার মোল্লা (৩৫) কে আটক করে থানায় নিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে শুকারঘাট এলাকায় জাব্বার মোল্লার বাড়িতে গরু চুরির চেষ্টা করা হয়। এসময় ঘটনাস্থলে একটি টর্চলাইট পড়ে থাকতে দেখে সেটি মামুন মোল্লার বলে সন্দেহ করেন তার চাচাতো ভাইয়েরা। এর জের ধরে শুক্রবার বিকেলে দিকে শুকারঘাট এলাকায় মামুন মোল্লাকে একা পেয়ে জাব্বার মোল্লা ও তার ভাইয়েরা অতর্কিত হামলা চালায়।
এ সময় তারা লাঠি ও লোহার শাবল দিয়ে মামুন মোল্লার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। মামুন মোল্লাকে রক্ষা করতে তার পিতা মোজা মোল্লা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এসময় তাকেও বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর আহত করা হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা আহত পিতা-পুত্রকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন মামুন মোল্লার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঢাকায় নেয়ার পথে আজ শনিবার ভোররাতে মামুন মোল্লার মৃত্যু হয়।
নিহত মামুনের ভাগ্নে সৌরভ জানান, দীর্ঘদিন ধরে চাচাতো ভাইদের সঙ্গে মামা ও নানার জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ চলছিল। গরু চুরির অপবাদ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে মামা মামুন মোল্লার ওপর হামলা চালানো হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, নিহতের মরদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে এলাকায় অভিযান চালিয়ে উজ্জ্বল মোল্লা ও জাব্বার মোল্লাকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এফপি/ফ