২০২৫ সালে বরিশাল বিভাগের প্রতি চারজন বাসিন্দার মধ্যে একজন ব্র্যাকের সেবা পেয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, দুর্যোগ মোকাবিলা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, অভিবাসন এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ নানা খাতে এ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) নগরীর একটি হোটেলের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এসব তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের মিল, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, সেফগার্ডিং অ্যান্ড সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স বিভাগের পরিচালক আফম শহিদুর রহমান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নারী ও যুবসমাজকে কেন্দ্র করে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “ব্র্যাক মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও সম্ভাবনা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই নিয়মিত বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমদ। তিনি বলেন, “সরকারের পক্ষে এককভাবে সবকিছু করা সম্ভব নয়। সরকার ও ব্র্যাকের মতো বেসরকারি সহযোগী প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করলেই দেশ আরও এগিয়ে যাবে।”
তিনি বরিশাল অঞ্চলের জেলেদের সুবিধার্থে একটি আধুনিক মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কোল্ড স্টোরেজ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনার জন্য ব্র্যাকের প্রতি আহ্বান জানান।
বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের জলবায়ু ও তৃণমূল বাস্তবতা থেকে উঠে এসে ব্র্যাক নিজস্ব সক্ষমতায় এগিয়ে যাচ্ছে। বার্ষিক প্রতিবেদন একটি লিখিত দলিল, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতার পরিচয় পাওয়া যায়।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. খালেদ আলম সমুন, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মনজুর-এ-এলাহীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের জনসংখ্যা প্রায় ৮৯ লাখ। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ব্র্যাকের বিভিন্ন সেবার আওতায় এসেছে প্রায় ২৪ লাখ মানুষ। বিভাগজুড়ে ব্র্যাকের ৪ হাজার ৪৫০ জন কর্মী কাজ করছেন, যাদের প্রায় ৪৪ শতাংশ নারী। এছাড়া ২৫৩টি সামাজিক উন্নয়ন কার্যালয় এবং ১৩টি সামাজিক ব্যবসা কার্যালয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এফপি/জেএস