কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানিকপুর গ্রামে এখন উৎসবমুখর আমেজ। আর এই আমেজের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রান্তিক কৃষক মরম আলী মিয়ার পালিত বিশালাকার এক ফ্রিজিয়ান জাতের গরু, যার নাম রাখা হয়েছে ‘টাইগার’।
বাঘের মতো চঞ্চল স্বভাব আর নজরকাড়া চেহারার কারণে পুরো এলাকায় গরুটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক মানুষ।
টাইগারের আনুমানিক ওজন ২৬ -২৭ মন হতে পারে ধারনা করা হচ্ছে। দাম হাকা হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা।
পরিবারের পরম যত্নে বেড়ে ওঠা ‘টাইগার’ মানিকপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হক মিয়ার ছেলে মরম আলী মিয়া পেশায় একজন প্রান্তিক চাষি। কৃষিকাজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় গত ৪ বছর ধরে সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে এই ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটি লালন-পালন করছেন তিনি। মরম আলীর ২১ বছর বয়সী ছেলে মামুন মূলত গরুটির প্রধান দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন। মামুন জানান, বাঘের মতো চঞ্চলতা আর গায়ের রঙের কারণেই শখ করে তারা এর নাম রেখেছেন ‘টাইগার’।
প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা ও খরচ টাইগারকে সম্পূর্ণ ক্ষতিকর হরমোন ও রাসায়নিক মুক্ত রেখে স্বাস্থ্যকর খাবার খাইয়ে বড় করা হয়েছে। মরম আলী জানান, প্রতিদিন টাইগারের পেছনে তার প্রায় ৮০০ টাকা খরচ হচ্ছে। তার খাদ্য তালিকায় রয়েছে,কাঁচা দেশীয়,ঘাস,ভাঙা ভুট্টা,ছোলা ও ভুসি অন্যান্য পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর উপাদান।
কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ভালো দামের আশায় বুক বেঁধেছেন প্রান্তিক চাষি মরম আলী। বিগত চার বছরের হাড়ভাঙা খাটুনি আর জমানো পুঁজি দিয়ে টাইগারের পেছনে ব্যয় করেছেন এই পরিবার। এই ঈদে গরুটি ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশায় বুক বেঁধেছেন মরম আলী মিয়া।
মরম আলী মিয়া আরো বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, অনেক কষ্ট করে পরিবারের সবাই মিলে গরুটি বড় করেছি। এখন শুধু আশা করছি কোনো সামর্থ্যবান ক্রেতা যেন আমাদের এই গরুটি ন্যায্য মূল্যে কিনে নেন। ক্রেতারা সরাসরি আমাদের বাড়িতে এসেও গরুটি দেখে যেতে পারেন।”
বাঞ্ছারামপুরের এই ‘টাইগার’ এবার কোরবানির পশুর হাটে অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে এটিই উপজেলার সবচেয়ে বড় গরু।
প্রান্তিক এই চাষির স্বপ্ন পূরণে দেশের সামর্থ্যবান ও শৌখিন ক্রেতাদের সুদৃষ্টি কামনা করছেন মরম আলীর পরিবার ও এলাকাবাসী।
এফপি/জেএস