অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সাইবার ও ভিসা প্রতারক চক্রের অন্যতম দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা। গ্রেফতারকৃতরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ডাঙ্গির ছলেয়াপাড়া এলাকার মৃত কছিমুদ্দিনের ছেলে মো. খাইরুল ইসলাম (২৪) এবং বকসাপাড়া এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে মো. জাবেদুল ইসলাম (৩৮)। জাবেদুল ইসলাম বিকাশের ডিএসও (DSO) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় দায়ের হওয়া সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২২ ধারার একটি মামলার তদন্তে এই প্রতারণা চক্রের তথ্য বেরিয়ে আসে।
মামলার বাদী মোহাম্মদ সামাল অভিযোগ করেন, অস্ট্রেলিয়ার একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ইমো অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারক চক্রটি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা উচ্চ বেতনে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বাদী ও তার স্বজনদের ব্যবহৃত বিকাশ নম্বর থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে প্রতারকরা যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সরাইল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেন তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজন বিকাশ নম্বরগুলোর কেওয়াইসি ও লেনদেন যাচাই করে আসামিদের শনাক্ত করেন। পরে গত ১৭ মে নীলফামারীর সৈয়দপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআই জানায়, গ্রেফতারকৃত খাইরুল ইসলামকে চক্রের মূল পলাতক সদস্য ‘প্রাণ ইসলাম’একটি মোবাইল ফোন কিনে দিয়ে প্রতারণামূলক ভিডিও তৈরির প্রশিক্ষণ দেয়। পরে ‘আরিফ মন্ডল’ নামে ভুয়া পরিচয়ে ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালানো হয়। ভিডিওগুলোতে নিজেকে সৌদি প্রবাসী পরিচয় দিয়ে স্বল্প খরচে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার সফলতার গল্প তুলে ধরা হতো। এসব ভিডিও ফেসবুকে বুস্ট করে প্রবাসী ও সৌদি প্রবাসীদের টার্গেট করা হতো। এ কাজে অংশ নেওয়ার জন্য খাইরুলকে আড়াই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল।
অপরদিকে জাবেদুল ইসলাম নিজের পদের অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা টাকা বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে ক্যাশ আউট ও লেয়ারিংয়ের কাজে সহযোগিতা করতেন। এজন্য তিনি প্রতি লাখ টাকায় ৫০০ টাকা করে কমিশন নিতেন। তদন্তে জানা গেছে, গত চার মাসে চক্রটি প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন করেছে।
পিবিআই আরও জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক প্রতারণা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছিল। চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেফতার এবং আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এফপি/জেএস