অগ্নিকাণ্ডের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সাতটি বসতঘর, নিমিষেই কয়লা হয়েছে মূল্যবান আসবাবপত্র আর কষ্টার্জিত নগদ টাকা। তবে সব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া পরিবারের ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার সময় দেখা মিলল এক অলৌকিক দৃশ্যের—ভস্মীভূত ছাইয়ের মাঝেও সম্পূর্ণ অক্ষত রয়ে গেছে পবিত্র কুরআন শরীফের প্রতিটি হরফ!
হৃদয়স্পর্শী এই ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ হবিরবাড়ী গ্রামের খন্দকার পাড়া এলাকায়।
গতকাল সোমবার (১৮ মে) দুপুরের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও আল্লাহর কালামের এমন অলৌকিক সুরক্ষায় স্তব্ধ ও হতবাক হয়েছেন স্থানীয় শত শত মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম মালিকানাধীন টিনশেড ঘর থেকে হঠাৎ বিকট শব্দে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। তবে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন তীব্র আকার ধারণ করে আশরাফুল ইসলামের চারটি ঘর ও মিতু আক্তারের তিনটি ঘর মোট সাতটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ও ঘরে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও অলৌকিকভাবে আগুনে আংশিক পুড়লেও পবিত্র কুরআন শরীফের ভেতরের হরফ বা লেখাগুলো অক্ষত রয়ে গেছে, যা দেখে হতবাক হয়েছেন স্থানীয়রা।
ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, “আমার বসতবাড়ির ৪টি ঘরে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ সব আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বর্তমানে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই বা এক মুঠো খাবারও অবশিষ্ট নেই। তবে এই ধ্বংসস্তূপের মাঝেও আল্লাহর কালামের হরফগুলো অক্ষত দেখে মনে এক অন্যরকম সান্ত্বনা পাচ্ছি।”
“অপর বাসার মালিক মিতু আক্তারের মা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলেন, হঠাৎ আগুন দেখে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন, জীবনের সব সঞ্চয় পুড়ে গেছে কিছুই রক্ষা করতে পারেননি।”
স্থানীয় বাসিন্দা মাহফুজ খন্দকার জানান, হঠাৎ লাগা এই আগুনে দুটি পরিবারের সবকিছু পুড়ে গেছে। তারা এখন খোলা আকাশের নিচে একেবারে নিঃস্ব অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। আগুনে সবকিছু শেষ হলেও কুরআন শরীফের পাতাগুলোর এই অবস্থা সবাইকে বিষ্মিত করেছে।
ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আতিকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি রওনা হয়েছিল। তবে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। ফলে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করা সম্ভব হয়নি।
এফপি/অ