দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে মিঠাপানির পুকুরে মাছের পাশাপাশি মুক্তা চাষে বিশেষ উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু করেছে BRAC এর মাইক্রোফাইন্যান্স বিভাগ।
সোমবার (১৯ মে) সকালে বরগুনা অঞ্চলের কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর শাখার আওতাধীন সিরাজপুর গ্রামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আগ্রহী গ্রামীণ নারী ও বেকার যুবকদের মাঝে মুক্তা উৎপাদনের প্রয়োজনীয় নিউক্লিয়াস ডাইস বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ডাইস বিতরণ করেন ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিএম আফজাল হোসেন।
বরগুনা ব্র্যাক আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য পুকুর ও জলাশয়কে কাজে লাগিয়ে স্বল্প খরচে মুক্তা উৎপাদনের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুক্তা বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান জৈব রত্নপাথর, যার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের শাখা পর্যায়ে আগ্রহী সদস্যদের বাছাই করে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণে ঝিনুক সংগ্রহ ও পরিচিতি, নিউক্লিয়াস ডাইস প্রতিস্থাপন কৌশল, পুকুর ব্যবস্থাপনা, মুক্তা সংগ্রহ, বাজারজাতকরণ ও হিসাবরক্ষণ বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিজন উদ্যোক্তাকে বিনামূল্যে ৫০০ থেকে ১,০০০টি নিউক্লিয়াস ডাইস, ঝিনুক, মাছের পোনা এবং প্রয়োজনীয় জাল ও ঝুড়ি সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি পুকুর প্রস্তুতি ও মুক্তা চাষ পরিচালনার জন্য সহজ শর্তে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধাও দেওয়া হবে। মুক্তা বিক্রির পর কিস্তি পরিশোধের সুযোগ থাকায় উদ্যোক্তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ থাকবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মাত্র ৩ কাঠা পুকুরে ৫০০টি ঝিনুকের মাধ্যমে মুক্তা চাষ শুরু করলে ১২ মাসের মধ্যে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। একই পুকুরে মাছ চাষ অব্যাহত রাখার সুযোগ থাকায় দ্বিমুখী আয়ের পথও তৈরি হবে। দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশে মুক্তা রপ্তানিরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিএম আফজাল হোসেন বলেন, গ্রামের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে এবং বেকার যুবকদের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে ব্র্যাকের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আমরা এই সম্ভাবনাময় প্রকল্প পৌঁছে দিতে চাই। ভবিষ্যতে উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত মুক্তা বাজারজাতকরণ ও রপ্তানিতেও সহায়তা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মুক্তা চাষ বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লব সৃষ্টি করতে পারে। অল্প জায়গা ও কম খরচে এই চাষ লাভজনক হওয়ায় এটি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, মাহমুদুল হাসান (আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক-দাবি), মোঃ শফিক (ডিএম-ওয়াশ), মোঃ আব্দুল হাকিম (ডিভিশনাল কো-অর্ডিনেটর-এসএস লিড জেনারেশন), মীর সোহেল (এলাকা ব্যবস্থাপক-দাবি), মোর্তুজা বিল্লাহ (শাখা ব্যবস্থাপক-মহিপুর) এবং সাইমুন ইসলাম (এক্সটেনশন অফিসার-কৃষি ও বীমা)।
এফপি/অ