বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় কোরবানির পশু যথাযথ নিয়মে জবাই এবং চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এনামুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় কোর্স পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাত জাহান ইতু।
কর্মশালায় কোরবানির পশু জবাইয়ের ধর্মীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি, চামড়া ছাড়ানোর সঠিক কৌশল, পচন রোধে লবণের ব্যবহার এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে চামড়া সংরক্ষণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে বলেন, কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় সঠিক নিয়ম অনুসরণ না করলে যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়, তেমনি চামড়ার গুণগত মানও নষ্ট হয়। তাই প্রশিক্ষিত কসাই ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন তার বক্তব্যে বলেন, চামড়া সংরক্ষণে সময়মতো পর্যাপ্ত লবণ ব্যবহার না করায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। সংরক্ষণের মৌলিক নিয়মগুলো মানলে এই ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসমাত জাহান ইতু বলেন, চামড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পদ। সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় পর্যায়েও এর অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এনামুল হাসান বলেন, প্রতিবছর কোরবানির মৌসুমে অসচেতনতা ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে দক্ষতা বাড়ানো গেলে জাতীয় অর্থনীতির ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কসাই, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনে আধুনিক সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোরবানির সময় চামড়ার অপচয় রোধ করা যায়।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, কসাই, মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণার্থীরা অংশ নেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এনামুল হাসান এর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি ঘটে।
এফপি/জেএস